ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসে কিছৃ আনন্দঘন স্মৃতি ধরে রাখতেই পরিবারের সাথে ছবি তোলেন আয়েশা আক্তার। ছবিতে স্বামী সন্তানদের সাথে এক ফ্রেমে বন্দি হন তারা। কে জানতো এই ছবিই আয়েশা আক্তারের জীবনে শেষ ছবি হবে। এই ছবিই এখন নুরুজ্জামানের পরিবারের শেষ স্মৃতি। বার বার ছবি বুকে নিয়ে নুরুজ্জামানের নিঃশব্দ আর্তনাত। আয়েশা আক্তারের সাথে ছোট্ট শিশু আর্শানের জীবনও কেড়ে নিয়েছে পদ্মায় বাস ডুবি।
নুরুজ্জামান বিশ্বাস ও তাদের শিশু কন্যা মাওয়া (৪) ঘাটে পৌঁছানোর পর বাস থেকে নেমে যান। ফলে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তারা।
স্বজনরা বলছেন, হাসি খুশি ছিল পরিবারটি। সেই সাথে ৭ মাসের ছোট্ট শিশু আর্শানের জন্ম হওয়ায় তারা অনেক খুশি হন। আর্শানের জন্ম আর ঈদের খুশি পরিবারের সাথে ভাগাভাগি করতেই ছুটে আসেন গ্রামে। সেই আনন্দই পরিবারটিকে বিষাদের কলো মেঘে ঢেকে দিলো।
বুধবার বিকাল চারটায় দৌলতদিয়া ফেরী ঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে উঠার সময় প্রায় ৪০ জন যাত্রী নিয়ে পদ্মায় ডুবে যায়। এতে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার খন্দকবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০) ও শিশু পুত্র আর্শান জামান (৭ মাস) মারা যান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদ উদযাপন করার জন্য নুরুজ্জামান বিশ্বাস স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা সহ ঈদের আগেই নিজেদের গ্রামের বাড়ি খন্দকবাড়িয়ায় আসেন। ঈদ উদযাপন শেষে বুধবার তারা নিজেদের কর্মস্থল ঢাকার আশুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন তারা । কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাসটিতে কুমারখালী থেকে উঠেছিলেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী রনি জানান- ডুবুরিরা রাত ২ টার দিকে আয়েশা আক্তার সুমা এবং রাত ৩ টার দিকে আর্শানের লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের লাশ আয়েশার বাবার বাড়ি আশুলিয়ার নয়ার হাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
জানা যায় নিহত আয়েশা আক্তার সুমা পেশায় একজন চিকিৎসক। তিনি সাভারের সি আর পি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশের বাড়ি রাজবাড়ী জেলায়।
এ ঘটনায় বাসচালক আরমান খান (৩১) নিহত হয়েছেন বলে জানা যায়। তার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালকুলা গ্রামে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

