সাভারের আশুলিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত সেই পুলিশ ভ্যানটির সন্ধান পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন লুকিয়ে রাখা গাড়িটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বহু খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি। অবশেষে একটি জমি উদ্ধার অভিযানের সময় বেরিয়ে আসে বহুল আলোচিত পুলিশ ভ্যানটি। কবিরপুরের ডাম্পিং স্টেশনে এ ভ্যানটি আপাতত রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাভারের বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকা থেকে ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায় আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের (ভূমি) সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল্লাহ আকনের নেতৃত্বে জমি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখানে অবস্থিত পুলিশের একটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হলে আড়ালে পড়ে থাকা পোড়া ভ্যানটি জনসম্মুখে চলে আসে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ‘জুলাইযোদ্ধা’ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। তারা গাড়িটিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সাক্ষী ও নির্মমতার স্মারক হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানান।
অভিযান পরিচালনাকালে ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক জুলাইযোদ্ধা বলেন, আশুলিয়া থানার সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৫ আগস্ট আমাদের ছয়জন ভাইকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল, যার মধ্যে একজন জীবিত ছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই আমরা এই গাড়িটির খোঁজ করছিলাম। আজ জানতে পারলাম এটি নাকি ডাম্পিং এলাকা থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
আশুলিয়ার নির্মমতার স্মৃতি এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশের নারকীয়তার স্মারক হিসেবে এই ভ্যানটিকে অবিলম্বে জুলাই জাদুঘরে সংরক্ষণ করার দাবি জানান তারা।
তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই গাড়িটির খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় নজর রাখছিলাম। এই গাড়িটি আমাদের শহীদ ভাইদের রক্ত ও ত্যাগের এক নির্মম সাক্ষ্য বহন করছে। এটি ডাম্পিংয়ে না পাঠিয়ে জাদুঘরে সংরক্ষণ করাই যুক্তিসঙ্গত।
বিষয়টি নিয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম এবং আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা উভয়ে প্রায় একই কথা বলেছেন। তারা বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে কথা বলেছেন । জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা সংরক্ষণের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তিনি জানান, পুলিশ ভ্যানটি আপাতত কবিরপুরে সরকারি একটি ডাম্পিংয়ে রাখা হয়েছে। নির্দেশনা পেলে তারা পুলিশ ভ্যানটি যথাযথ জায়গায় পৌঁছে দেবেন।
অপরদিকে উচ্ছেদ অভিযানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ঢাকা জেলার রিজার্ভ ফোর্সের ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, এটি নিতে হলে আইন মন্ত্রণালয়ের আদেশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন হবে। নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, জুলাই বিপ্লব বিজয়ের লগ্নে ৫ আগস্ট বিকাল তিনটার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এর বাইরে আরো একজন গুলিতে গুরুতর আহত হন। একজনকে জীবিত ও পাঁচজনকে মৃত অবস্থায় প্রথমে একটি ভ্যানে তোলা হয়। সেখান থেকে পুলিশের একটি গাড়িতে তোলে তারা। ওই গাড়িতে থাকা অবস্থায় জীবিত একজনসহ ওই ছয়জনকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় পুলিশ।
ঘটনার দুই বছরেরও বেশি সময় পর পুলিশ সদস্যদের নিষ্ঠুরতার প্রতীক সেই ভ্যানটি উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

