আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পদ্মায় বাসডুবি

মাত্র ৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন খাইরুল

আমার দেশ অনলাইন

মাত্র ৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন খাইরুল
ছবি: সংগৃহীত

ঈদের ছুটি শেষে বুধবার (২৫ মার্চ) কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাসে করে কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন খাইরুল। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসটি ডুবে যায়। এতে মারা যায় ২৬ জন। আর অলৌকিকভাবে বেঁচে যান ১১ জন। এর মধ্যে খাইরুল ইসলাম খাঁ একজন।

বাসডুবির মুহূর্তে মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরে সেই কঠিন মুহূর্তের কথা বলেন যুবক খাইরুল।

বিজ্ঞাপন

খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে খাইরুল। চাকরি করেন ঢাকার একটি টেক্সটাইল মিলের ম্যাশিনম্যান পদে।

বাসটিতে তার আসন নম্বর ছিল বি-২। দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে খোকসা স্ট্যান্ড থেকে বাসটি ছাড়ার সময় প্রতিটি আসন পূর্ণ ছিল। দৌলতদিয়া ঘাটে বাসটি ফেরিতে উঠতে গিয়ে হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। ওই সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে নিজের সিটে বসে থাকা খাইরুল বাসের দরজা দিয়ে নদীতে ছিটকে পড়েন। মৃত্যুর দুয়ার থেকে বেঁচে ফেরেন খাইরুল।

‘কীভাবে যে নদীতে ছিটকে পড়লাম, বলতে পারি না। শুধু এটুকু মনে আছে, মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে সব ওলটপালট হয়ে গেল। সাঁতরে তীরে ওঠার পর এক লোক সাহায্য করার নাম করে আমার ফোনটি নিয়ে আর ফেরত দেয়নি।’

খাইরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তার পাশের সিটের যাত্রী সাদা টি-শার্ট পরা যুবকটিও খোকসা স্ট্যান্ড থেকে আগেই বাসে উঠে বসেছিলেন। তাদের বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর পাশের সিটের যুবক নেমে যান। কয়েক মিনিট পর আবার সিটে ফিরে আসেন। খাইরুল তাকে বসতে দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান। ঠিক তখনই তাদের বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগলে তিনি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে নদীতে পড়েন। তার দেখা বাসটিতে থাকা হাতেগোনা কয়েকজন যাত্রী নদী সাঁতরে ফেরি ও পন্টুনে উঠে জীবন বাঁচাতে পেরেছেন।

খাইরুল জানান, দুর্ঘটনার পর তার পাশের আসনের যুবকটির সঙ্গে আর দেখা হয়নি। তিনি জানান, বাসের প্রতিটি সিট যাত্রীতে ঠাসা ছিল। প্রত্যেক নারী যাত্রীর সঙ্গে শিশু ছিল। ছিটে বসে থাকা কমপক্ষে ৪০ জন নারী ও শিশু যাত্রী ডুবে যাওয়া বাসের মধ্যে আটকা পড়েছিল। বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন।

সৌহার্দ্য পরিবহনের খোকসার কাউন্টারের মাস্টার রাকিব বিশ্বাস জানান, বি-১ ও ২ নম্বর আসনের যাত্রীরা খোকসা স্ট্যান্ডের কাউন্টারের যাত্রী ছিলেন। তাদের একজন জীবিত ফিরেছেন। অজ্ঞাতপরিচয়ের আর এক বৃদ্ধ যাত্রীও উঠেছিলেন। ওই বৃদ্ধ ও বি-১ আসনের যাত্রী রাজিবের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

রাকিব বিশ্বাসের দাবি, চালককে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ঘটনার সময় তিনি চালকের আসনেই ছিলেন। বেঁচে ফেরা ফারুকের সঙ্গে তিনিও কথা বলে তা নিশ্চিত হয়েছেন। চালক আরমানের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাস ফেরিতে ওঠার আগে সুপারভাইজার সিরিয়ালের জন্য নেমেছিলেন আর হেলপার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের বাড়িও রাজবাড়ী জেলায়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন