নরসিংদীতে ব্যবসায়ীর কান কামড়ে দিল বিএনপি নেতা, এলাকা ছাড়ার নির্দেশ

জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী

নরসিংদীতে ব্যবসায়ীর কান কামড়ে দিল বিএনপি নেতা, এলাকা ছাড়ার  নির্দেশ
চিকিৎসাধীন আহত ব্যবসায়ী। ইনসেটে বিএনপি নেতা। ছবি: আমার দেশ

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় সাখাওয়াত হোসেন নামে এক বালু ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে এক কান কামড় দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার ফলে ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেনের কানে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বাংলাদেশ জুটমিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়া।

অপরদিকে ভুক্তভোগী বালু ব্যবসায়ীর নাম সাখাওয়াত হোসেন (৪৮)। তার বাড়ি পার্শ্ববর্তী গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জে। তার বাবার নাম ফিরোজ আলী। বর্তমানে তিনি পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেন জানান, ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুটমিলের ভেতরে টি কে গ্রুপের নির্মাণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানে বালু ভরাটের কাজে শীতলক্ষ্যা নদীতে ড্রেজার বসিয়েছিলেন সাখাওয়াত হোসেন। সমবার বিকেলে ড্রেজার শ্রমিকদের বেতন দিয়ে ফেরার পথে জুটমিলের সামনে দুটি মোটর সাইকেলে করে ৪ জন লোক এসে তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে বিএনপি নেতা মহিউদ্দিনের বাড়িতে নিয়ে যায় ওই ব্যক্তিরা। বাড়িটিতে তাকে এক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এ সময় মহিউদ্দিনসহ আরও ৬-৭ জন লোক কিলঘুষি ও চড় থাপ্পড় মারতে থাকে।

সাখাওয়াত হোসেন আরও জানান, গলা চেপে ধরে সাখাওয়াতের এক কানে কামড় বসিয়ে দেন বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন। রক্তাক্ত অবস্থায় কেটে যাওয়া কান চেপে ধরলে ড্রেজার নিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয় তাঁকে।

এর একপর্যায়ে মহিউদ্দিনকে না জানিয়ে সেখানে ড্রেজার মেশিন বসানোর জবাব জানতে চায়। এর উত্তর দেওয়ার আগেই গলা চেপে ধরে সাখাওয়াতের এক কানে কামড় বসিয়ে দেন মহিউদ্দিন। রক্তাক্ত অবস্থায় কেটে যাওয়া কান চেপে ধরলে ড্রেজার সরিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয় তাকে। ড্রেজার সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় তিনি হাসপাতালে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যস্ততার অজুহাতে বিষয়টি এরিয়ে যান মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, ড. আবদুল মঈন খান স্যারের এক প্রোগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত আছি। পরে ভিডিও বক্তব্য দিয়ে বিস্তারিত জানাবো।

এদিকে কানে কামড়ের গুরুতর আঘাত নিয়ে সাখাওয়াত হোসেনের হাসপাতালে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর রোগীর কানে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। তিনি এখন আমাদের পর্যবেক্ষণে আছেন।

এ বিষয়ে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ আল-মামুন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...