ধলেশ্বরী-বুড়িগঙ্গায় মাটিকাটার মহোৎসব

ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

ধলেশ্বরী-বুড়িগঙ্গায় মাটিকাটার মহোৎসব

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বুক চিরে বয়ে চলা ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদীতে ক্ল্যামশেল ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতার বিরুদ্ধে। তারা বিআইডব্লিউটিএ, বক্তাবলী নৌ-পুলিশ ও ফতুল্লা মডেল থানার অসাধু কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নদী থেকে প্রকাশ্যে মাটি উত্তোলন করে স্থানীয় ইটভাটায় বিক্রি করছেন। প্রকাশ্যে ৫-৬টি ক্ল্যামশেল ড্রেজারের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করছেন। অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর দুই তীরের বাসিন্দারা ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছেন।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর মোহনায় মতিন হাজি ও মাহাম্মদ মেম্বারের নেতৃত্বে খইল্লারচর এলাকার সেলিম, শাহ জালাল, আফসার, আনন্দ বাজার এলাকার রতন, জাজিরার এসি আলী, আতাবর, ইমরান, নুর মোহাম্মদ, মাসুম রানাসহ আরো কয়েকজন মিলে ক্ল্যামশেল ড্রেজারের মাধ্যমে নদী থেকে মাটি উত্তোলন করছেন। যেভাবে নদী থেকে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে, দৃশ্য দেখলে চাঁদপুরের মোহনার বালুমহালকেও হার মানায়। প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত অবৈধভাবে মাটি কেটে নিলেও নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে। নদীর মাটি কাটার ফলে নদীর তীরে অবস্থিত বক্তাবলী ও কোন্ডা এলাকার জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এসব এলাকার মানুষের বুকফাটা কান্না কেউ দেখছে না।

বিজ্ঞাপন

বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান, সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের, খইল্লারচর এলাকার সেলিম, শাহ জালাল, আফসার, আনন্দ বাজার এলাকার রতন, জাজিরার এসি আলী, আতাবর, ইমরান, নুর মোহাম্মদ, মাসুম রানার নেতৃত্বে প্রকাশ্যে নদীতে মাটি কাটা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় গত সোমবার রাতে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় এনসিপির যুব উইং জাতীয় যুবশক্তির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আলী বাদী হয়ে বিএনপি নেতা হালিম আজাদসহ ১৬ বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০-১২ জনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বক্তাবলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিনুল, ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলমসহ বিআইডব্লিউটিএর কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা মাটিকাটা সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। মাটিকাটা বন্ধের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বারবার প্রতিবাদ করেছিলেন এবং প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। উল্টো এনসিপি নেতার ওপর হামলা করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এমপি আল আমিন বলেন, মাটি কাটা সিন্ডিকেটের কাছ থেকে বক্তাবলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম কমিশন খান। যে কারণে তিনি ব্যবস্থা নেন না। সবাই মাটি কাটতে দেখলেও নৌ-পুলিশের চোখে তা পড়ে না।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীর জাজিরা ও ধলেশ্বরী নদীর আলীরটেক পয়েন্টেও গ্রাফ (ক্ল্যামশেল ড্রেজার) দিয়ে মাটি কাটা হয়। আমাদের বক্তাবলীতে দুটি গ্রাফ চলে। এর সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জড়িত। সবাইকে নিয়েই চলতে হয়। তাই চাইলেও ব্যবস্থা নিতে পারি না।

ফতুল্লার বক্তাবলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, নদীতে টহল দিলেও মাটি কাটা তাদের চোখে পড়ে না। যদি নদীতে মাটি কাটার সময় কাউকে পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

## আবু দারদা যোবায়ের

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন