চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ১ হাজার ৮৭ শিক্ষক, ৫৫০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা বন্ধ করে দিলেও শেষ পর্যন্ত পরিশোধে বাধ্য হয়েছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। বুধবার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে বেতন পরিশোধ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়েট কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রীয়তোষ চক্রবর্তী।
চুয়েট সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপককে চিঠি দিয়ে বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৩৬৭ জন শিক্ষক, ২০৮ জন কর্মকর্তা ও ৫১২ জন কর্মচারী রয়েছেন। টানা ১৬ দিন ধরে চলা নতুন উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে সংহতি জানানোয় ক্ষোভে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এতে দুর্গাপূজার আগে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-কর্মচারীরা।
তবে বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সোনালী ব্যাংকের সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেন বেতন ভাতা পরিশোধ না করলে তারা অবস্থান ছাড়বেন না। পরে বিষয়টি উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা করলে পরিশোধ করে দেওয়া হয়।
কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ চক্রবর্তী বলেন, ‘নতুন ভিসি আমাদের বেতন-ভাতা বন্ধ করলেও আন্দোলনের মুখে দিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। বুধবার দুপুরে আমরা সবাই বেতন-ভাতা উত্তোলন করে ফেলেছি।’ তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে উপাচার্যের অনুমোদনের কোনো প্রয়োজন নেই। বিষয়টি অ্যাকাউন্টস কন্ট্রোলার ও ডেপুটি অ্যাকাউন্টস কন্ট্রোলারের হাতে ন্যস্ত। তারাই বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য বকেয়া অনুমোদন করে থাকেন।
এদিকে কয়েক দিন আগে সোনালী ব্যাংক চুয়েট শাখায় বেতন-ভাতার বিল পাঠানো হলে উপাচার্যের পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকে বেতনের বিল পাঠানোকে ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে ব্যাংককে চিঠি লেখেন নতুন ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘চুয়েট আইন, ২০০৩-এর ধারা ১৩ (৭) অনুযায়ী উপাচার্যের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া যেকোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ। ব্যাংক এই টাকা ছাড় করলে তাদেরও বেআইনি আর্থিক লেনদেনে সহায়তার জন্য যৌথভাবে দায়ী করা হবে।’ একই সঙ্গে অবাধ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
উপাচার্যের এই যুক্তির বিষয়ে চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম বলেছেন, ‘প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বেতন-বোনাস পরিশোধে উপাচার্যের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয় না। হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপহিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরেই ব্যাংক থেকে বেতন-বোনাস ছাড় করা হয়। সে অনুযায়ী সেপ্টেম্বরেও তারা স্বাক্ষর করে জমা দিয়েছেন। কিন্তু উপাচার্য চিঠি দিয়ে তা বন্ধ করে দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, কিন্তু কখনো বেতন-বোনাস বন্ধ হয়নি। মূলত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তার পক্ষে আনতেই এই সংকট তৈরি করা হয়েছে।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

