নরসিংদীতে বাড়িতে ঢুকে হামলা, গুলিতে যুবক নিহত

নরসিংদীতে বাড়িতে ঢুকে হামলা, গুলিতে যুবক নিহত

আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে নরসিংদী শহরে বাড়িতে ঢুকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে আব্দুল্লাহ ওরফে বাবু (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার বিকেলে শহরের চৌয়ালা মহল্লায় লোকমান হোসেন পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল্লাহ চৌয়ালা এলাকার আব্দুল কাদিরের ছেলে। তিনি পেশায় ফুচকা বিক্রেতা। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

আহতরা হলেন রুবেল (৩০) ও মিরাজ (২০)। তাদের মধ্যে রুবেল নিহত আব্দুল্লাহর বড় ভাই বলে জানা গেছে।

নরসিংদী সদর থানার ওসি এ আর এম মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী শহরের চৌয়ালা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবু লাল ও হেলাল নামে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আবু লাল ও হেলাল আগে একই অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এরপর এলাকাভিত্তিক আধিপত্য, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও জোরালো হয়।

উভয় পক্ষের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে আবু লাল পক্ষের লোকজন একটি বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় আব্দুল্লাহ ওরফে বাবুকে গুলি করা হয়। একই ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রুবেল ও মিরাজ আহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গুলিবিদ্ধ আব্দুল্লাহকে দ্রুত উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রুবেল ও মিরাজকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

নরসিংদী সদর থানার ওসি এ আর এম মামুন বলেন, নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ওসি আরও জানান, আহত মিরাজকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন