জুলাই যোদ্ধা সাহালমের পাশে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ

উপজেলা প্রতিনিধি, ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ)

জুলাই যোদ্ধা সাহালমের পাশে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন সাহালম ইসলাম। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। ঘটনার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি এই জুলাইযোদ্ধা। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি হাতের দুটি আঙুল স্থায়ীভাবে বিকল হয়ে গেছে। ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে তার।

এমন পরিস্থিতিতে সাহালম ইসলামের চিকিৎসার্থে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ। রোববার জেলা পরিষদ কার্যালয়ে তার হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।

বিজ্ঞাপন

চেক গ্রহণের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাহালম ইসলাম। কণ্ঠ ভারী হয়ে তিনি বলেন, “অনেক দিন ধরে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু এখন আর পারছি না। চিকিৎসা চালাতে গিয়ে অনেক টাকা ঋণ হয়ে গেছে। হাতের দুটি আঙুল নষ্ট হয়ে গেছে, আগের মতো কাজ করতে পারি না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকের কাছে গিয়েছি, কিন্তু কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। জেলা পরিষদের কাছে সাহায্যের আবেদন করার পর এত দ্রুত সহযোগিতা পাবো, তা ভাবিনি। আমি আবার সুস্থ হয়ে বাঁচতে চাই, কাজ করে পরিবারকে সহায়তা করতে চাই।”

জানা গেছে, সাহালম ইসলাম পেশায় একজন পিকআপ ভ্যান চালক। আন্দোলনের সময় ১৭ আগস্ট রায়েরবাগ এলাকায় একটি মিছিলে অংশ নেন তিনি। সে সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, তাকে কোমরে আঘাত করে ফেলে দিয়ে শটগানের ছররা গুলি করা হয়। এতে তার হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়।

এরপর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা। গত ২১ মাসে দুটি অস্ত্রোপচার করা হলেও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। হাতের দুটি আঙুল স্থায়ীভাবে বিকল হয়ে যাওয়ায় কর্মক্ষমতা অনেকটাই হারিয়েছেন। বর্তমানে পরিবার চালানো এবং চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে তিনি ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, “জুলাইযোদ্ধা সাহালম ইসলামের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা আনন্দিত। যারা আন্দোলনে নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা আশা করি, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।”

একসময় কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারকে ভালো রাখার স্বপ্ন দেখতেন সাহালম ইসলাম। কিন্তু আন্দোলনের সেই দিনের গুলিতে বদলে গেছে তার পুরো জীবন। এখন তার একটাই প্রত্যাশা— সুস্থ হয়ে আবার স্টিয়ারিং হাতে তুলে নেওয়া এবং ছোট্ট মেয়ের মুখে হাসি ফোটানো।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন