টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় বংশাই নদীভাঙন থেকে রাস্তা রক্ষায় দেয়াল দিয়ে সিমেন্ট-পাথরের ব্লক বসানোর পদ্ধতির (প্যালাসাডিং) মাধ্যমে ব্লক বসানোর কাজ করা হয়। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতেই ১৫ দিনের মধ্যে গাইডওয়াল ও ব্লক ধসে পড়ায়, এখন রাস্তাও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে । ঘটনাটি উপজেলার ১ নম্বর কুড়ালিয়া ইউনিয়নের মলকা গ্রামের বংশাই নদীর পূর্বপাড়ে। ঠিকাদারের দুর্নীতি ও প্রকৌশলীর সঠিক তদারকির অভাবে এমনটা হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
জানা গেছে, চুনিয়া-মলকা রাস্তার জয়নাতলী মোড় হতে -চাপড়ী-বেতবাড়ী মোড় পর্যন্ত দুই দশমিক দুই কিলোরমিটার এ রাস্তা নির্মাণের জন্য ২০২১-২০২২ অর্ধবছরে প্রাক্কালিক মূল্য ২ কোটি ১৪ লাখ ১১ হাজার ৭৯০ টাকা ধরা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামালপুরের মেসার্স মিতু ট্রেডার্স ১ কোটি ৯৯ লাখ ৫৩ হাজার ৪২৪.৩৩৫ টাকায় কাজটি পায়। কিন্তু মিতু ট্রেডার্সের গড়িমসির কারণে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে কিছু কাজ করার পর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর আর ওই ঠিকাদারকে খুঁজে পাওয়া না গেলে, পরে (সাব ঠিকাদার) লিচু মিয়ার মাধ্যমে চলতি বছরের শুরুর দিকে আবার কাজ শুরু হয়। যা ৩০ এপ্রিল শেষ করে। কিন্তু কাজটি ঠিকাদারের দুর্নীতি ও প্রকৌশলীর সঠিক তদারকিতে অবহেলার কারণে এমন হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মলকা গ্রামের আবু সাইদ দুখু জানান, যখন ব্লগ বসানোর কাজ করা হয়, তখন ঠিকাদারকে বলেছি পাথর, বালু ও সঠিক পরিমাণে সিমেন্ট ব্যবহার করার জন্য। কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনেনি। বেতবাড়ী গ্রামের হাতেম আলী মুন্সি জানান, ঠিকাদারের দুর্নীতির কারণে এমন নিম্ন মানের কাজ হয়েছে। আমরা এ নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারকে বললেও তারা সঠিকভাবে কাজ না করায়, শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই ধসে পড়ে।
শামছুল হক বলেন, দুর্নীতিবাজ কন্ট্রাক্টর (ঠিকাদার) ও প্রকৌশলীর কারণে কাজটি খারাপ হওয়ায় ১৫ দিনের মধ্যেই ধসে পড়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিতু ট্রেডার্সের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া না গেলে, তাদের সাব ঠিকাদার লিচু মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ব্লক ধসে পড়ার খবর পেয়েছি। অসময়ে পানি হওয়া ও পাহাড় থেকে পানি ব্লগের নিচ দিয়ে চুয়ে পড়ার কারণে, এমন হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যেই ঠিক করে দেওয়া হবে।
উপসহকারী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন, নদীতে অসময়ে পানি ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হয়তো এমন হয়েছে। তবে ঠিকাদারের সঙ্গে আমাদের এক বছরের চুক্তি আছে। যদি কোথাও কোনো সমস্যা হয়, তাহলে তারা নিজ দায়িত্বে ঠিক করে দিবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ভূইয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো কিছু বলতে পারব না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

