দিনের ব্যস্ত শহর কিংবা রাতের নির্জন সড়ক—সব স্থানে সবসময়ই চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং আর বখাটেদের উৎপাতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে কিশোরগঞ্জ শহরে। দীর্ঘদিনের দাবির পর এবার শহর নিরাপদ রাখতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে বসানো হচ্ছে ২৫০টি সিসি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ থাকবে সদর মডেল থানায়। পুলিশের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ মানুষ। আর পুলিশের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে আরো দ্রুত।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ শহরে দিন দিনই আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। এই শহরে দিনের আলোয় ব্যস্ততা, আর রাত নামলেই নেমে আসত নীরবতা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে কিশোরগঞ্জ শহরের চিত্র। এখন দিনের ব্যস্ত সময়েও যেমন অপরাধের আশঙ্কা, তেমনি রাতের নির্জন সড়কেও রয়েছে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা। চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের উৎপাতে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে শহরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন সাধারণ মানুষ। অবশেষে সেই দাবিতে সাড়া দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। কিশোরগঞ্জ শহরের নিরাপত্তা জোরদারে প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। পুরো প্রকল্পে স্থাপন করা হবে ২৫০টি ক্যামেরা। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা। প্রাথমিক পর্যায়ে বসানো হচ্ছে ৫০টি ক্যামেরা। গাইটাল বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো চলে আসবে সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে। তবে ক্যামেরা স্থাপনই শেষ নয়, পুরো ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে সদর মডেল থানায় করা হচ্ছে আলাদা সার্ভার স্টেশন। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ক্যামেরাগুলোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে এখান থেকেই। এ বিষয়টি জানিয়েছেন মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূইয়া, ওসি, কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা।
নিরাপত্তার এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন শহরের বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় এলে কমে আসবে চুরি-ছিনতাই, নিয়ন্ত্রণে আসবে কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের উৎপাত। অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগও কমবে। শহরের ব্যস্ত মোড়, প্রধান সড়ক কিংবা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা—কোথাও অপরাধ ঘটলে ক্যামেরার চোখ এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন। আর শুধু অপরাধ সংঘটনের পর নয়, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে নজরদারি বাড়িয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ধাপে ধাপে শহরের প্রতিটি সড়ক, বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
তবে ক্যামেরার চোখ কতটা সক্রিয় থাকে, কত দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং অপরাধীরা কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে—তার ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগের সাফল্য। নিরাপদ শহরের প্রত্যাশায় এখন কিশোরগঞ্জবাসীর চোখও সিসি ক্যামেরার দিকে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

