হাঁটুপানি মাড়িয়ে স্কুলে যাতায়াত, দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

উপজেলা প্রতিনিধি, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ)

হাঁটুপানি মাড়িয়ে স্কুলে যাতায়াত, দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ১২৪ নং হোসেন্দী আতকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে মাঠে হাঁটুপানি জমে আছে। েই পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এতে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, উপজেলার ১২৪ নং হোসেন্দী ইউনিয়নের হোসেন্দী আতকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী এবং পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠে হাঁটুপানি জমে রয়েছে। এই পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অনেক অভিভাবককে শিশু শিক্ষার্থীদের কাঁধে কিংবা কোলে করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী বলেন, ‘বিদ্যালয়েরে মাঠে হাঁটুপানি। ছোট বাচ্চা এই পানি দিয়ে স্কুলে যেতে পারবে না। তাই বাধ্য হয়ে তাকে কাঁধে করে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছি।’

বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, আমার সন্তান এই বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রধান শিক্ষক মো. আল-আমিন বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পরে দীর্ঘদিন যাবৎ যাতায়াতের রাস্তা ছিল না। গত অর্থবছরে স্থানীয় ইদ্রিস আলীর বাড়ির আঙিনা ব্যবহার করে সংকীর্ণ একটা রাস্তা ইউএনও স্যারের সহায়তায় তৈরি করা হলেও নিচু হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। তাছাড়া স্কুলের ভৌগোলিক অবস্থান নিচু হওয়ার কারণে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। আশপাশে ফসলি জমি তলিয়ে থাকে। ফলে স্কুলের আঙিনার পানি সরতে পারে না। অনেকবার মাঠে মাটি ভরাটের আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু কোনো সুরাহা হচ্ছে না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবেদন হোসেন বলেন, সারা উপজেলার যেসব স্কুলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, সেসব স্কুলে মাটি ভরাটের জন্য তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, ওই বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। জানা থাকলে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হতো। নতুন অর্থবছর কেবল শুরু হয়েছে। এই অর্থবছরে প্রকল্পের বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি সংসদে রয়েছি। ওই বিদ্যালয় মাঠের জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন