মাদারীপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের ভেতরে কাওসার বেপারী (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফারুক ফকির (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার বিকেলে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। আহত কাওসার বেপারী সদর উপজেলার সৈয়দারবালী এলাকার শাহালম বেপারীর ছেলে। আটক ফারুক ফকির সদর উপজেলার টুবিয়া এলাকার নুরুল হক ফকিরের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে প্রায় দুই মাস আগে সদর উপজেলার সৈয়দারবালী এলাকার মান্নান মোল্লার ছেলে শাহীন মোল্লাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ওঠে ফারুক ফকির ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
শনিবার দুপুরে শাহীনের শ্যালক কাওসার বেপারী হাসপাতালে ফারুককে একা পেয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন বলে জানা গেছে। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হলে ওয়ার্ডের একটি থাইগ্লাস ভেঙে যায়।
পরে এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ফারুক হাসপাতালের ষষ্ঠ তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে ব্যাপক ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভেঙে যাওয়া থাইগ্লাসের টুকরা দিয়ে কাওসারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করারও অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
কাওসারের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ফারুককে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
গুরুতর আহত কাওসারকে প্রথমে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক তাকে রাজধানী ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন।
ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

