টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক নিরীহ পরিবারের নারী ও শিশুসহ কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে পেটানোর পর প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বিভাষ সরকার নুপুরের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী ওই পরিবার আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র থাকছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সকালে মির্জাপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ভুক্তভোগী ওই পরিবার কর্তৃক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব অভিযোগ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য বাসন্তী রানী সরকার, বাসন্তীর স্বামী রাম গোপাল সাহা, চাচাতো ভাই খুশিমোহন মন্ডল ও ধীরেন মন্ডল এবং মেয়ে আহত শিশু পায়েল সাহা।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, বাসন্তী রানীর বাবা সুনীল সরকার, খুশীমোহনের বাবা নিতাই মন্ডল এবং ধিরেন সরকারের বাবা উপেন্দ্র মন্ডলসহ কয়েকজন প্রায় ৪০ বছর আগে নিজেদের জমিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। সেখানে সুনীল সরকার শিক্ষকতা করতেন। তার দুই মেয়ে রয়েছে।
২০১২ সালে তিনি তার জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে লিখে দেন। প্রায় আট বছর আগে সুনীল সরকারের মৃত্যু হলে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি শুধু জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে মিনতি রানী জমিগুলো তার দুই মেয়ে রত্মা সরকার ও বাসন্তী রানীর নামে লিখে দেন।
বাসন্তী রানীর অভিযোগ, তার চাচাতো চাচা উপেন্দ্র সরকার আগে তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন। এ জন্য তাদের কিছু জমিও তাকে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি একটি ঘর নির্মাণ করেন।
সম্প্রতি নুপুর চেয়ারম্যান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জায়গা নিজের দাবি করে সীমানাপ্রচীর নির্মাণের কারণে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমানাপ্রাচীরের দক্ষিণ পাশে তাদের জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান নুপুর। এতে বাধা দিলে তাকে, তার স্বামী রামগোপাল সাহা ও মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়।
বাসন্তী রানী বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেব রাস্তার অজুহাতে আমাদের জমি দখল করতে চাইছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে মারধর করেন। আমার ছোট মেয়েকেও মেরেছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমাদের মারধরের পরে এখন আমরা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আত্মীয়বাড়ি আশ্রয় নিয়েছি। চেয়ারম্যান এখন আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এখন আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং আমাদের বেদখল হওয়া জমি ফেরত চাই।’
খুশিমোহন মন্ডল বলেন, ‘আমাদের শরিকি সম্পত্তি বণ্টন হয়নি। আমার চাচার ইচ্ছায় তেঘরী কেশব গ্রামের ২৬৭ নং দাগের ২২ শতাংশ জমিতে একটি শিক্ষাপ্রতষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ। নুপুর চেয়ারম্যান ওই জায়গা নিজের দাবি করে দখলে নিয়েছে।
ধীরেন সরকার চেয়ারম্যানের নির্যাতনের বর্ণনা দিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমাদের নিরীহ পেয়ে নুপুর চেয়ারম্যান জোরপূর্বক আমাদের জমি দখলে নিচ্ছে। আমাদের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই।’
চেয়ারম্যানের মারধরের শিকার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী পায়েল সাহা বলেন, ‘আমার মা-বাবাকে চেয়ারম্যান যখন লাঠি দিয়ে মারছিলেন, তখন আমি ভিডিও করি। এটা দেখে চেয়ারম্যান আমার দিকে তেড়ে এসে আমাকে লাঠি দিয়ে মারে। আমি অজ্ঞান হয়ে গেলে আমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন আমরা ভয়ে থাকি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহেড়া ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর। তিনি বলেন, ওই দিনের পর তাদের সঙ্গে আমার আর দেখা হয়নি। স্থানীয় কাঞ্জুনম দাস গংদের সাথে এওয়াজ সূত্রে ওই জমির মালিক তিনি বলে দাবি করেন।
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ মামুন বলেন, ভুক্তভোগীরা থানায় যে অভিযোগ দিয়েছেন, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

