সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি কিছুটা কমলেও কুশিয়ারার মারকুলি স্টেশনে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি এখনো মৌসুমি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও কয়েকটি পয়েন্টে পানির প্রবণতা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে শাল্লা উপজেলার মারকুলি স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে ৭ দশমিক ২৩ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৭ দশমিক ২৪ মিটার, যা মৌসুমি বিপদসীমা ৭ দশমিক ৮০ মিটারের তুলনায় ৫৬ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে পানির উচ্চতা ৬ সেন্টিমিটার কমেছে। একই সময়ে সুনামগঞ্জে ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ছাতক পয়েন্টে নদীর পানি ৮ দশমিক ৪৬ মিটার উচ্চতায় রয়েছে, যা বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার নিচে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে পানির উচ্চতা ৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এ সময়ে ছাতকে ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা উজানের ঢল অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার কমে ৭ দশমিক ১২ মিটারে নেমেছে, যা বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। অন্যদিকে যাদুকাটা নদীর লাউড়েরগড় স্টেশনে পানি ৪২ সেন্টিমিটার কমে ৭ দশমিক ২৮ মিটারে নেমেছে, যা বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। দিরাইয়ে পুরাতন সুরমা নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে ৫ দশমিক ৮১ মিটারে পৌঁছালেও তা এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে লাউড়েরগড়ে। এছাড়া সুনামগঞ্জে ৭৭ মিলিমিটার, ছাতকে ৮০ মিলিমিটার এবং দিরাইয়ে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অব্যাহত ভারি বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিনে নদ-নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানান, জেলার অধিকাংশ নদীর পানি এখনো মৌসুমি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও কুশিয়ারা নদীর মারকুলি অংশে পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। উজানের ঢল ও স্থানীয় বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র, ত্রাণসামগ্রী এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

