ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জমির গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের গুলিতে নিহত হুমায়ুন কবীর মিন্টুর মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া কন্যা। স্বামীর মৃত্যুর শোকে ভেঙে পড়া স্ত্রী বারবার বলছেন, ‘এখন আমার ছোট মেয়েকে নিয়ে কীভাবে চলব?
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পৌরসভার চতুল উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ডা. গোলাম কবীর, নিহতের বড় ভাই, বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম জানান, পৈত্রিক জমির মেহেগুনী ও কড়াই গাছ জোরপূর্বক ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন তার ভাসুর গোলাম কবীর।
ওই গাছগুলো তার স্বামী নিজ হাতে লাগিয়েছিলেন। গাছ কাটতে বাধা দিলে গোলাম কবীর বাড়ি থেকে লাইসেন্সকৃত শর্টগান এনে ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান হুমায়ুন কবীর মিন্টু।
তিনি অভিযোগ করেন, গোলাম কবীর পূর্বেও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের হুমকি দিতেন এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলাফেরা করতেন।
নিহতের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে ফাবিহা কবীর বাবার হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, আমার বাবাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমি এখন এতিম হয়ে গেলাম। আমার পড়াশোনা কীভাবে চালাব?
স্থানীয়রা জানান, সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অভিযুক্ত গোলাম কবীর ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত শর্টগান ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

