অপরাধ জগতের জীবনের স্বাদ গ্রহণ এবং জেল খাটার অভিজ্ঞতা নেওয়ার বিকৃত কৌতূহল আর সে কৌতূহল মেটাতেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় ১১ বছর বয়সি শিশু হোসাইনকে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সংঘটিত এ চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত ছিল কিশোরদের একটি দল। পুলিশ তাদের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি। গ্রেপ্তাররা হলোÑনেত্রকোণা জেলার সৈয়দপুর থানার যাজনের ছেলে ইয়াসিন (১৮), বরগুনা জেলার আমতলী থানার সোহেল সিকদারের ছেলে সাইফুল (১৬), বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার জলিলের ছেলে তানজীয় (১৭), লালমনিরহাট জেলার মৃত খগেনের ছেলে ইউনুস (১৫), ফতুল্লার মৃত কালামের ছেলে হোসাইন (১৫) ও ফতুল্লার অহিদুল আলমের ছেলে রাহাত (১৩)। এদের মধ্যে চারজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি, আর তদন্তে আরো দুজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। প্রধান আসামি ইয়াসিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
পুলিশ জানায়, ফতুল্লা রেলস্টেশনসংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়মিত আড্ডা দেওয়ার পাশাপাশি মাদক সেবন করত এ কিশোররা। খুন করলে জেলে যেতে হয়, সে অভিজ্ঞতা নেওয়ার তীব্র ইচ্ছা থেকেই তারা কোনো একজনকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা পথচারী শিশু হোসাইনকে টার্গেট করে। হোসাইন তার বাবার সঙ্গে শহরে ফুল বিক্রি করত। তাকে গাঁজা সেবনের লোভ দেখিয়ে দাপা ইদ্রাকপুর ব্যাংক কলোনি এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল তাদের আরো তিন সহযোগী রাহাত, হোসাইন ও ওমর। সবাই মিলে হোসাইনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে এবং লাশটি সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
গত ১৮ এপ্রিল সকালে ফুল বিক্রি করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় হোসাইন। পাঁচদিন পর ২৩ এপ্রিল বিকালে ওই পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তার গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরে তদন্তে নেমে প্রথমে ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরো পাঁচজনকে আটক করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরো একজন পলাতক রয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোরদের মধ্যে এ ধরনের ভয়ংকর অপরাধপ্রবণতা ও বিকৃত মানসিকতা সমাজ ও পরিবারের জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

