টাঙ্গাইলে পৃথক দুটি হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইলের পৃথক দুই আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান ভূঞাপুর উপজেলার মেহেদী মোস্তফা হত্যা মামলায় নাজিরুল ইসলাম (২৮) নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। একই দিন বিশেষ জজ আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দনা দেলদুয়ার উপজেলার চাঞ্চল্যকর হাজেরা বেওয়া ও তার মেয়ে নাসরিন আক্তার হত্যা মামলায় সোহরাব হোসেন নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
ভূঞাপুর উপজেলার মেহেদী মোস্তফা হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত নাজিরুল ইসলাম উপজেলার গাড়াবাড়ী গ্রামের মফিজুল হকের ছেলে। অপরদিকে দেলদুয়ার উপজেলার মা-মেয়ে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহরাব হোসেন একই উপজেলার বর্ণী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে।
দেলদুয়ারের মা-মেয়ে হত্যা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ছানোয়ার হোসেন ও তার ছেলে মো. রনিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
টাঙ্গাইলের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, ভূঞাপুর উপজেলার গাড়াবাড়ী গ্রামে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ২০২০ সালের ১৮ জুন মেহেদী মোস্তফাকে ছুরিকাঘাত করেন নাজিরুল ইসলাম। গুরুতর আহত অবস্থায় মেহেদী মোস্তফাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওইদিনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ নাজিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করার পর তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে তদন্ত শেষে ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক এনামুল হক চৌধুরী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত নাজিরুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
অপরদিকে, বিশেষ জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি শাহজাহান কবির জানান, ২০১১ সালের ৫ মে দেলদুয়ার উপজেলার বর্ণী দক্ষিণপাড়া গ্রামের হাজেরা বেগম (৬০) ও তার মেয়ে নাসরিন আক্তার (২২) রাতের খাবার খেয়ে একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোরে পরিবারের সদস্যরা তাদের ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে বাড়ি থেকে আনুমানিক ২০০ গজ দূরে একটি পাটক্ষেতে হাজেরা বেগম ও নাসরিন আক্তারের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহত হাজেরা বেগমের ছেলে মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে দেলদুয়ার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে দেলদুয়ার থানার উপ-পরিদর্শক জামাল মিয়া তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ২০১১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

