গাজীপুরের টঙ্গী মিলগেট এলাকায় হা-মীম গ্রুপের সিসিএল-৩ নামের পোশাক কারখানায় ‘প্যানিক অ্যাটাকে’ অন্তত অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
গতকাল শনিবার দুপুরের খাবারের পর কারখানার এক কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে গুরুতর অসুস্থ ২০ জনকে আশুলিয়ার কামারপাড়া ইস্ট–ওয়েস্ট হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, সকালে কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর লুৎফর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। তাকে দ্রুত টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। লুৎফরের মৃত্যুসংবাদ কারখানায় ছড়িয়ে পড়লে সুইং ফ্লোরে কর্মরত বহু শ্রমিক আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কয়েকজন অজ্ঞানও হয়ে যান।
অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতরদের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কারখানার জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, আতঙ্কের কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আজকের জন্য কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রুমানা হক বলেন, শ্রমিকরা প্যানিক অ্যাটাকের কারণে অসুস্থ হয়েছেন। পানি বা খাবারের কোনো সমস্যা নয়। টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. হারুন অর রশিদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। প্রাথমিকভাবে আতঙ্ক থেকেই শ্রমিকরা অসুস্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

