আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রঙিন কপি চাষে সফলতা

সৈয়দ মাহমুদ হাসান মুকুট, সিরাজদিখান

রঙিন কপি চাষে সফলতা

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় রঙিন কপি চাষে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছেন কৃষক সেলিম শেখ। ব্যতিক্রমী চিন্তা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি আর অদম্য পরিশ্রমের সমন্বয়ে তিনি আজ এলাকার একজন সফল কৃষক।

দীর্ঘদিন ধরে আলু চাষ করলেও টানা লোকসান তাকে বারবার হতাশ করেছে। লাভের মুখ না দেখে তিনি ভাবতে শুরু করেন বিকল্প কিছু করার । সে ভাবনা থেকেই শুরু হয় টমেটো চাষ। ফলাফল আশাব্যঞ্জক হওয়ায় ধীরে ধীরে তিনি সবজি উৎপাদনের দিকে ঝোঁকেন। সময়ের সঙ্গে বাড়ে সাহস ও অভিজ্ঞতা। আর সে সাহসই তাকে নিয়ে যায় রঙিন ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রকলির মতো আধুনিক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি চাষের পথে।

বিজ্ঞাপন

সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের কুসুমপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় চলতি মৌসুমে সেলিম শেখ প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে সাদা, গোলাপি ও হলুদ ফুলকপি এবং সাদা ও গোলাপি বাঁধাকপি রেড ক্যাবেজ ও ব্রকলিসহ ছয় ধরনের কপি চাষ করেছেন। পাশাপাশি তিনি আরো ২৮০ শতাংশ জমিতে লাউ, টমেটো, খিরা, উচ্ছে, ধনিয়া পাতা, শিম, মুলা, বেগুনসহ ১৮-২০ ধরনের সবজি চাষ করছেন। এ বছর অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ফলনও হয়েছে বেশ সন্তোষজনক।

রঙিন কপির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর বাজারমূল্য। সেলিম শেখ জানান, চলতি মৌসুমে প্রতি পিস রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি তিনি ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন, যা সাধারণ কপির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। পুষ্টিগুণ বেশি হওয়ায় এসব সবজির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি। তার ভাষায়, খরচ তুলনামূলক কম হলেও লাভ অনেক বেশি হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে বড় পরিসরে রঙিন সবজি চাষের পরিকল্পনা আছে। সরকারি সহায়তায় আরো এক ধাপ এগিয়ে ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ বছর তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ২০ শতক জমিতে ব্রকলি চাষ করেন। ফলন ও বাজারদর ভালো পাওয়ায় আগামী মৌসুমে ব্রকলি চাষের পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এ কাজে সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ নির্বাচন, রোগবালাই দমন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং নিয়মিত পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে জানান সেলিম শেখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন