ধারণক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি রোগী নিয়ে তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে নরসিংদীর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল। হাম, ডেঙ্গুসহ শিশু ও বয়স্ক রোগীর উপচেপড়া ভিড়ে হাসপাতালের বারান্দা বা মেঝেতেও এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। শয্যা না পেয়ে এক সিটে দুজনকে ভাগাভাগি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সীমিত জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে এই বিশালসংখ্যক রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে, যার বড় প্রভাব পড়েছে নরসিংদীতেও। নরসিংদী শহর ও আশপাশের এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ডেঙ্গু ও হাম রোগীর পাশাপাশি সাধারণ শিশু ও বয়স্ক রোগীরা ভর্তি হতে এসে সিট পাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেককে হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ১০০ শয্যার এ হাসপাতালে দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন তিন শতাধিক রোগী ভর্তি আছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী হাসপাতালে রেকর্ড ৩৩৫ রোগী ভর্তি ছিলো, যার মধ্যে ১০৫ জন পুরুষ, ১৩২ জন নারী এবং ৯৮ জন শিশু। এর মধ্যে ৩০ জনই ডেঙ্গু আক্রান্ত।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় হাসপাতালটিতে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার রোগী আসে। এছাড়া রায়পুরা উপজেলা এবং পাশে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত বিশাল এলাকার রোগীরা উন্নত সেবার আশায় এখানে ছুটে আসে। ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াত সুবিধার কারণে রোগীর চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে, যা এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রায়পুরা থেকে আসা আমেনা বেগম জানান, তার ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে দুই দিন ধরে হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর্থিক সংকট ও ঢাকায় যাওয়ার লোক না থাকায় শয্যা না পেলেও এখানেই পড়ে আছেন। অন্যদিকে, ডেঙ্গু আক্রান্ত স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মোমেন খান জানান, শয্যা খালি না থাকায় অন্য এক রোগীর অনুপস্থিতিতে সাময়িকভাবে তার বিছানায় শুয়ে স্যালাইন নিতে হচ্ছে তাকে।
রোগী বাড়ায় চাপ বেড়েছে প্যাথলজি বিভাগেও। ল্যাব টেকনিশিয়ান শাহ আলম জানান, আগে যেখানে দৈনিক ৭০-৮০টি পরীক্ষা হতো, এখন তা দেড় শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। আবাসিক মেডিকেল ডা. মাজহারুল আলম বলেন, ‘১০০ জনের লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল দিয়ে তিনগুণের বেশি রোগীকে সেবা দেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এএনএম মিজানুর রহমান জানান, ধারণক্ষমতার বাইরে গেলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখামাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালের আসন সংখ্যা, জনবল ও সরঞ্জাম দ্রুত বৃদ্ধির জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী জেলাবাসী।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


