মালয়েশিয়ায় তিন বাংলাদেশি খুন, অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি পরিবারের

মালয়েশিয়ায় তিন বাংলাদেশি খুন, অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি পরিবারের
ছবিতে বামে কিরণ ও মোহশিন মিয়, ডানে নজরুল ইসলাম

মালয়েশিয়ার তামান লিঙ্গি এলাকায় এক বাংলাদেশির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন নরসিংদীর দুই প্রবাসীসহ তিন বাংলাদেশি। ঘটনার দেড় মাস পর দেশে আনা লাশ দাফন করা হয়েছে। এখন এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পরিবারের চরম দুর্বিপাকে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

নিহতদের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অসচ্ছলতা দূর করে সুদিনের আশায় ১৮ বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার নৌকাঘাটা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে কিরন মিয়া। অন্যদিকে, পরিবারের হাল ধরতে চার বছর আগে একই উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন প্রতিবেশী ধনাইয়া গ্রামের মাতৃহীন সাইজুল ইসলামের ছেলে মোহশিন মিয়া।

তারা দুজনসহ নজরুল ইসলাম ও অভিযুক্ত ইদ্রিছ আলী মালয়েশিয়ার পোর্ট ডিকসনের তামান লিঙ্গি এলাকার একটি বাড়িতে বাস করতেন এবং একই মালিকের বাগানে একসঙ্গে কাজ করতেন।

চলতি বছরের ৩ আগস্ট বিকেলে নিজেদের মধ্যে এক বাগ্বিতণ্ডা ও কথাকাটাকাটির জেরে নৃশংস হয়ে ওঠেন ইদ্রিছ আলী। তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে সহকর্মী কিরন মিয়া, মোহশিন মিয়া ও নজরুল ইসলামকে হত্যা করেন। খবর পেয়ে মালয়েশিয়ার লিঙ্গি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত মো. ইদ্রিস আলীকে (৪৩) আটক করে। এ ঘটনায় মো. কাজল মণ্ডল নামে আরেকজন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়ে রেমবাউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ দেড় মাস পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশে আনা হয় তাদের লাশ। মোহশিনের লাশ ১২ সেপ্টেম্বর নিজ গ্রামে আনা হলে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। ছোট মেয়েকে হারানোর অল্প কিছুদিনের মাথায় একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে মা শাহানা বেগম এখন শোকে দিশাহারা।

অন্যদিকে, ১৩ সেপ্টেম্বর কিরন মিয়ার লাশ শিবপুরের বাড়িতে এনে দাফন করা হয়। ৯ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ কিরন পরিবারে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। সংসারের একমাত্র অভিভাবককে হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।

কিরনের ভাই হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমার ভাইটি সারা জীবন আমাদের পরিবার ও সন্তানদের ভরণপোষণ জুগিয়েছেন কিন্তু নিজের জন্য কোনো সঞ্চয় রেখে যেতে পারেননি। একটা পাকা ঘরও করতে পারেননি। এখন সরকারি সাহায্য ছাড়া এই অবুঝ সন্তানদের নিয়ে বাঁচার আর কোনো পথ খোলা নেই।’

মোহশিনের ছোট ভাই রুবেল জানান,‘ বাবা আগেই মারা গেছেন, কিছুদিন আগে ছোট বোনটাও চলে গেল। এই ভাইটাই ছিল আমাদের একমাত্র আশার আলো। আজ তাকে হারিয়ে মা প্রায় পাগল হয়ে গেছেন।’

এদিকে ঘটনার অনুসন্ধানে নেমে মালয়েশিয়ার পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে অভিযুক্ত ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে তাকে পোর্ট ডিকসন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তিনজনকে হত্যার পাশাপাশি কাজল মণ্ডলকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে দেশটির আইন অনুযায়ী অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ড অথবা ৩০ থেকে ৪০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১২ চাবুক/বেত্রাঘাত হতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...