নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুতুবপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দেলপাড়া মির্জাবাড়ি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম (৪২) পুরান ঢাকার ঢালকানগর লেন এলাকার আব্দুস শাকুর মিয়ার ছেলে। আর আটক ফারজানা আক্তার মুন্নি পশ্চিম দেলপাড়া এলাকার আইয়ুব আলীর মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, ফারজানা আক্তার মুন্নির এটি দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম সংসারে তার দুই সন্তান রয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়ে তিনি জাহাঙ্গীর আলমকে বিয়ে করেন। তাদের দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক কলহের কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল।
সোমবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মুন্নি ঘর থেকে বের হয়ে প্রতিবেশীদের জানান, তিনি তার স্বামীকে হত্যা করেছেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, পুরান ঢাকার ফরিদাবাদ এলাকায় জাহাঙ্গীরদের বাড়িতে মুন্নি স্বামী-সন্তান নিয়ে ভাড়ায় বসবাস করতেন। সেই সুবাদে তাদের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে মুন্নি প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়ে জাহাঙ্গীরকে বিয়ে করেন এবং দেলপাড়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে রোববার রাতে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে অচেতন করেন মুন্নি। সোমবার সকালে সুযোগ বুঝে ঘরে থাকা চাপাতি ও ছুরি দিয়ে জাহাঙ্গীরের মাথা ও গলায় আঘাত করে তাকে হত্যা করেন।
ওসি আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও ছুরি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

