টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অপারেশন সম্পন্ন না করে রেফার্ড করা সেই প্রসূতির জ্ঞান ফিরেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ৭টার সময় ওই প্রসূতির জ্ঞান ফিরে বলে জানিয়েছেন তার বাবা দেওয়ান বছির উদ্দিন। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করানো হয়। সেই হিসেবে অপারেশনের ২২ ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরে রত্মা বেগম নামের ওই প্রসূতির।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের ছলিমনগর গ্রামের দেওয়ান বছির উদ্দিনের মেয়ে রত্মা বেগমের প্রসব বেদনা শুরু হয়। প্রথমে মির্জাপুর ন্যাশনাল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কুমুদিনী হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পথিমথ্যে অবস্থা জটিল হওয়ায় মির্জাপুর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে গেলে ওই প্রসূতিকে সিজারিয়ান অপারেশন করতে পারবেন বলে আশ্বাস দেন।
এরপর সন্ধ্যায় ক্লিনিকের ডা. রিমি দে তার অস্ত্রোপচার করেন। তবে নবজাতককে বের করতে না পেরে তড়িঘড়ি করে পেটে সেলাই দিয়ে কুমুদিনী হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ভর্তি না করে ঢাকা নিয়ে যেতে বলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
পরে রাত সাড়ে ৯টার সময় মির্জাপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। পরদিন মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যা সন্তান জন্ম দেন।
কিন্তু ২০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও জ্ঞান ফিরছিল তার। এ ঘটনায় প্রসূতির বাবা দেওয়ান বছির উদ্দিন ক্লিনিক মালিক আলম মিয়াসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে মির্জাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
মির্জাপুর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রাইভেট ক্লিনিকের ডা. রিমি দে বলেন, আমাদের ক্লিনিকে যে পরীক্ষা করা হয়েছিল সেই কাগজগুলো দেখিয়েছে। ওই রোগীকে অপারেশনে নেওয়া হয়েছিল। বাচ্চাটা বের করলে রোগীর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কারণ ফুল সামনের দিকে ছিল। রোগীকে অন্য একটি ক্লিনিক থেকে ফেরত দিয়েছে, সেটি আমি জানি না। আমাদের ক্লিনিকে ভর্তি করা ঠিক হয়নি।
মির্জাপুর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রাইভেট ক্লিনিকের মালিক আলম মিয়াকে মুঠোফোনে কল দিলে বলেন, রোগীকে রেফার্ড করা হয়েছে বলে শুনেছি। আমি পরে কথা বলব বলে কল কেটে দেন।
মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ওই ক্লিনিক পরিদর্শন করে মালিক-ডাক্তার কাউকে পাওয়া যায়নি। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

