আইনজীবীদের ওপর হামলার অভিযোগ, দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ নাসিক প্রশাসক

আইনজীবীদের ওপর হামলার অভিযোগ, দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ নাসিক প্রশাসক
বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দুপক্ষের হাতাহাতি। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে আদালতে সিআর মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আইনজীবীরা।

বিজ্ঞাপন

আইনজীবীদের অভিযোগ, দুপুরে সমিতি ভবনে খাবারের আয়োজন চলার সময় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান সাখাওয়াত হোসেন খান। এ সময় আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এক পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক নয়নের সঙ্গে সাখাওয়াত হোসেনের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে তিনি পিপির শার্টের কলার ধরে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর আইনজীবীরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সাখাওয়াত সেখান থেকে সরে গিয়ে আইনজীবী সমিতির সভাপতির কক্ষে আশ্রয় নেন। ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা ওই কক্ষ ঘিরে ফেলেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর সাখাওয়াত হোসেন খান ক্ষমা চান বলে জানা গেছে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে বসে খাবার খাওয়ার সময় সাখাওয়াত, আজিজ মোল্লা ও সাইদুলসহ কয়েকজন সেখানে যান। তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও গালিগালাজ করা হয়। এক পর্যায়ে পিপি ওমর ফারুক নয়নের গায়ে হাত তোলা হয়।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে দুই কোর্ট একসঙ্গে রাখার দাবিতে আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। তাদের অভিযোগ, ম্যাজিস্ট্রেসি কোর্ট কালীরবাজারে স্থানান্তরের উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছেন সাখাওয়াত হোসেন। এ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, আইনজীবীদের চলমান আন্দোলনকে জাতীয় পর্যায়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ অবস্থায় আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতেই মঙ্গলবারের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত। তার দাবি, আদালতপাড়ায় আইনজীবী সমিতির সভাপতির কক্ষে তাদের জন্য নাশতার আয়োজন করা হয়। নাশতা করার সময় পাশের কক্ষ থেকে তাদের উদ্দেশে অশালীন গালাগালি করা হচ্ছিল।

পরে সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তিনি বিষয়টি জানতে পাশের কক্ষে গেলে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি কারো ওপর হামলা বা কাউকে মারধর করেননি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন