ছয় বছর পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা হওয়া সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ এবং গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারিতে রক্ষিত ৯টি মাঝারি আকারের জার ও ৬টি সিলগালাকৃত খাম খুলে এ গণনার কাজ শুরু হয়।
পাগলা মসজিদে আগত দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা নগদ টাকার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ-রুপার গয়না এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা দান করে থাকেন। দানবাক্স খোলার পর এসব মূল্যবান সামগ্রী সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়। বর্তমানে সেগুলো খুলে ক্যারেট অনুযায়ী স্বর্ণ ও রুপা পৃথক করে ওজন নির্ধারণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে বাজারমূল্য নির্ধারণ সাপেক্ষে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করা হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাগুলো দেশভিত্তিক আলাদা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা করা হয়েছিল। সে সময় ৪১৫ ভরি ১ আনা স্বর্ণ এবং ১৮৪ ভরি রুপা নিলামে বিক্রি করে ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে পাওয়া গিয়েছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা।
তিনি আরো জানান, ২০২০ সালের ১১ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৮ বার দানবাক্স খোলা হয়েছে। যার মধ্যে সর্বশেষ গত ২৭ জুন দানবাক্স খোলা হয়েছিল। বর্তমানে পাগলা মসজিদের মূল তহবিলে জমা রয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। এছাড়া মসজিদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে এ পর্যন্ত অনুদান হিসেবে এসেছে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা।
মসজিদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে জেলা প্রশাসক জানান, ১ কোটি ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৪ টাকা ব্যয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে তিনটি নামাজের শেড, ওজুখানা ও নারীদের জন্য পৃথক ওয়াশব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে মুসল্লিদের সুবিধার জন্য মসজিদের বাইরে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি একটি দৃষ্টিনন্দন আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা প্রণয়নের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা এবং ওজন নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য ও ছয়জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া গণনার কাজে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছয়জন কর্মচারী, মসজিদের কর্মী, বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) ১০ জন স্বর্ণকার এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা সরাসরি সহযোগিতা করছেন।
এ সময় গণনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

