রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ভাঙচুর, চিকিৎসককে মারধর

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর

রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ভাঙচুর, চিকিৎসককে মারধর

চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় কর্তব্যরত এক চিকিৎসককে পাথর ও লাঠি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে হাসপাতালের ইমারজেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাসির ইসলাম (২৯), অফিস সহায়ক এসকেন্দার শেখ (৫৮), আনসার গার্ড কমান্ডার এপিসি আব্বাস আলী (৪৬), আনসার সদস্য সোহেল সরদার (২৫), কামরুল (৩০), আজিজুল হক (২৬) ও কাউসার (২৮)। এর মধ্যে ডা. নাসির ইসলাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার বাসিন্দা লাল মিয়া কাজী শুক্রবার রাত ১০টার দিকে হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। তবে রোগীর স্বজনেরা রাতে ঢাকায় নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে লাল মিয়া কাজী মারা যান। রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্বজনেরা।

অভিযোগ রয়েছে, রাত ১টার দিকে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল হাসপাতালের ইমারজেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে প্রবেশ করে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষির পাশাপাশি পাথর ও লাঠি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

এ সময় চিকিৎসককে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হাসপাতালের অফিস সহায়ক এসকেন্দার শেখ ও দায়িত্বরত পাঁচ আনসার সদস্যকেও মারধর করা হয়। হামলার সময় হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। হামলাকারীরা হাসপাতালের ভেতরে ভাঙচুরও চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আহত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলাম বলেন, রোগী হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আমি তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পরামর্শ দিই। কিন্তু স্বজনেরা রাতে নিতে রাজি হয়নি। পরে জানতে পারি রোগী মারা গেছেন। এরপর হঠাৎ কয়েকজন লোক রুমে ঢুকে আমাকে মারধর শুরু করে। একজন পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে। অন্যরাও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে।

অফিস সহায়ক এসকেন্দার শেখ বলেন, স্যারকে ৭০-৮০ জন মিলে মারধর করছিল। আমরা থামাতে গেলে আমাদেরও কিল-ঘুষি মারা হয়। আমার জামা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। আমি এই হামলার বিচার চাই।

এ ঘটনায় আটক সোলাইমান কাজী (আল আমিন) দাবি করেন, তার মামা চিকিৎসকের অবহেলায় মারা গেছেন। তবে হামলার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কে বা কারা ডাক্তারের ওপর হামলা করেছে, আমি জানি না। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে। আমরা আল-আমিন ও জসীম উদ্দিন নামে দুজনকে আটক করেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন বলেন, চিকিৎসক নাসির ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। মামলার প্রস্তুতিও চলছে।

চিকিৎসকদের ওপর এভাবে হামলা চলতে থাকলে তারা কীভাবে নিরাপদে চিকিৎসাসেবা দেবেন? আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন