আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু পুরো উদ্যমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। গণসংযোগকালে ভোটারদের কাছ থেকেও পাচ্ছেন ব্যাপক সাড়া। অপরদিকে জামায়াতসহ ১১দলীয় জোট মনোনীত এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল নির্ভর করছেন জামায়াতে ইসলামীর ভোটব্যাংকের ওপর। তবে এখন পর্যন্ত জামায়াতের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশকে তার সঙ্গে ভোটের মাঠে দেখা না যাওয়ায় বিএনপির প্রার্থী তার অবস্থান শক্ত করেছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, এ আসনে আট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু জনসমর্থনে অনেকটা এগিয়ে আছেন। অপরদিকে এখানে জামায়াত নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুলকে সমর্থন দিলেও মাঠপর্যায়ে তিনি এখনো ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছাতে পারেননি।
দেখা গেছে, বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বিভিন্ন পথসভায় নির্বাচিত হলে প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তার পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূল এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করা। তিনি এ কাজগুলো চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন । এছাড়া যানজট নিরসনে পুলিশের সহযোগিতায় চেকপোস্ট স্থাপনের প্রস্তাবও জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
দেওয়ান সালাউদ্দিন জানান, তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পঞ্চমবারের মতো এ আসনে নির্বাচন করছেন। তিনি উঠান বৈঠক, পথসভা ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
অপরদিকে এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেত্রী। জামায়াত তাদের মনোনীত প্রার্থী প্রত্যাহার করার পর তিনি নির্বাচনি লড়াইয়ে আসেন। জামায়াতের সাংগঠনিক ও আর্থিক সমর্থন থাকলেও দলটির বড় একটি অংশের সমর্থন আদায় করতে পারেননি। কারণ, জামায়াতের অনেক কর্মী দীর্ঘদিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রচার চালালেও এবার ভিন্ন প্রতীকে ভোট চাইতে গিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন।
ধানের শীষের প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন, ‘আমি ১০০ দিনের নির্বাচনি রূপরেখা ঘোষণা করেছি। নির্বাচিত হলে মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করব এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করব। দখলবাজ ও চাঁদাবাজমুক্ত করব। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীকের এনসিপি নেত্রী দিলশানা পারুল বলেন, ‘আমি সাভারের মাটিতে বড় হয়েছি। এখানেই লেখাপড়া করেছি। সুষ্ঠু ভোট হলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হব। নির্বাচিত হলে আমি সাভারের মাটি চাঁদাবাজমুক্ত করব।’
এছাড়া এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বাহাদুর ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের শেখ শওকত হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ ফারুক খান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইসরাফিল হোসেন সাভারী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মোহাম্মদ কামরুল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। তারা ফলাফল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবেন বলে মনে করছেন না স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তবে শ্রমজীবী ভোটাররা এবার ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮টি কেন্দ্রে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। এছাড়া সব কেন্দ্রে ইতোমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
ঢাকা-১৯ আসনে মোট ভোটার সাত লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ তিন লাখ ৭৯ হাজার ৯০৭, নারী তিন লাখ ৬৭ হাজার ১৫০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ২৭৫টি। এর মধ্যে ৩৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ আসনে সাভার পৌরসভা এবং সাভার সদর, বিরুলিয়া, পাথালিয়া, আশুলিয়া, ইয়রপুর, শিমুলিয়া, ধামসোনা ইউনিয়নের ভোটাররা অন্তর্ভুক্ত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


আগামীর রাষ্ট্রে চাই ইনসাফের অর্থনীতি