নরসিংদীর নগর পাঁচদোনা এলাকায় দুই হাতবিহীন আলতাফ হোসেন দুঃখু মিয়ার প্রতিষ্ঠিত স্কুল পরিদর্শনে এলেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া।
তিনি স্কুল পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দুটি হাত না থাকা সত্ত্বেও একটি শিশু কানন গড়ে তোলায় জেলা প্রশাসক বিদ্যালয়টির নিবন্ধন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের আশ্বাস দেন। এ সময় তিনি স্কুলের জন্য নগদ অর্থ, শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুলব্যাগ, ক্রীড়াসামগ্রী ও গাছের চারা তুলে দেন।
এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
আলতাফ হোসেন দুঃখু মিয়ার জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। তবু অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর নিজস্ব মনোবল নিয়ে জীবনসংগ্রামে এগিয়ে চলেছেন তিনি। পা দিয়ে লিখেই শেষ করেছেন পড়াশোনা এবং অর্জন করেছেন সর্বোচ্চ শিক্ষাসনদ। চাকরির বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে অবশেষে নিজ বাড়িতেই গড়ে তোলেন একটি শিশু কানন, যার নাম দেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল। স্কুলটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠায় সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা ছাড়াই এটি পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১০ জন শিক্ষক ১৪৫ জন শিশুকে পড়ালেখা করাচ্ছেন।
সোমবার সকালে প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও দুঃখু মিয়ার জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। বিদ্যালয়টিকে উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক জানান, আলতাফ হোসেন দুঃখু মিয়া শুধু নরসিংদীরই নন, সারা দেশের গর্ব। নিজের আত্মবিশ্বাস, মনোবল ও অদম্য সাহসের বলেই তিনি আজকের এই অবস্থানে এসেছেন। তাঁর সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথটি সুগম করতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন এবং জেলা প্রশাসন ও সরকার তাঁর পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
বিদ্যালয়টিতে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, দুঃখু মিয়ার স্বপ্নের বিদ্যালয়টিকে উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে যা যা করণীয়, সে বিষয়ে কাজ করা হবে। এ উদ্যোগকে কেবল একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বপ্ন হিসেবে দেখার কোনো অবকাশ নেই, কারণ এর সঙ্গে এলাকার শিশুদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে।
জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকায় ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মাঝে তাঁকে বড় হতে হয়েছে। দাদা আদর ও আক্ষেপ মিশিয়ে তাঁর নাম রেখেছিলেন ‘দুঃখু মিয়া’। তবে নামের সঙ্গে দুঃখ জড়িয়ে থাকলেও তিনি জীবনযুদ্ধে বিজয়ী হয়েছেন।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

