নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩

জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী

নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩
ছবি: আমার দেশ

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে লতিফ মোল্লা (৩২) নামে আরেক জনের লাশ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ নিয়ে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ দিকে সংঘর্ষে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করে রায়পুরা থানায় একটি মামলা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

নিহত লতিফ মোল্লা রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের কান্দাপাড়া এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে। মালয়েশিয়া প্রবাসী এই যুবক গত সপ্তাহে দেশে ফেরেন। তার ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুটি মেয়ে রয়েছে। গত মঙ্গলবার সংঘর্ষের পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

মঙ্গলবার ভোরে রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। টেঁটা, দেশি অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানা কয়েক ঘণ্টা সংঘর্ষ চলে।

ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় কয়েকটি বাড়িঘরে। ঘটনার দিন ওসমান মেম্বারের ছেলে অনিক মিয়া (২০) নামের একজন এবং পরদিন বুধবার শাহ আলমের ছেলে কাওসার আহমেদ (৩৭) নামের একজন এবং শহীদ মিয়ার ছেলে লতিফ মোল্লার (৩২) লাশ উদ্ধার হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন (মিষ্টার) ও আলাল মুন্সি (জবা মেম্বার) গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে মঙ্গলবার ভোর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষের লোকজন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজন যুবক ও কিশোরকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে অনিক মিয়া (২০), রাজু (২৮), সুমন (৩৫), কাশেম (২৫), মোবারক হোসেন (৩৩), কাউছার আহমেদ (৩৭), লতিফ মোল্লা (৩২), মোস্তফা মিয়া (৬০)সহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

গুরুতর আহত অবস্থায় অনিক, রাজু ও মোবারককে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনিকের মৃত্যু হয়।

অপর দিকে পরদিন বুধবার বেলা তিনটার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার চরদীঘলদী ইউনিয়নে জিৎরামপুর এলাকায় টেটাবিদ্ধ অবস্থায় একজনের লাশ ভেসে উঠে। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে তার পরিবারের লোকজন এসে লাশ সনাক্ত করে। ভেসে আসে লাশটি নিলক্ষা ইউনিয়নে সংঘর্ষের পর নিখোঁজ কাউসার আহমেদের। পরে সন্ধ্যায় মাধবদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে রায়পুরা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মজিবুর রহমান বলেন, নিলক্ষায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাতে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০/৬০জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা করেছেন। এখন পর্যন্ত কেউ আটক করা যায়নি। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...