রাজধানী ঢাকার পৃথক তিন স্থান থেকে নরসিংদীর এক যুবকের খণ্ডিত দেহাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম ওবায়দুল্লাহ (৩০)। তার বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের তাতারকান্দি গ্রামে। এ ঘটনায় তার গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওবায়দুল্লাহ ছিলেন আব্দুল হামিদ মিয়ার বড় ছেলে। স্থানীয়ভাবে এইচএসসি ও হাফিজিয়া সম্পন্ন করার পর সংসারের অভাব ঘোচাতে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে ঢাকায় একটি হোটেলে চাকরি নেন। পরবর্তীতে পেশা পরিবর্তন করে এক চিকিৎসকের মার্কেটিং কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে আগের সহকর্মীদের সঙ্গেই একই মেসে থাকতেন।
নিহতের ছোট বোন মিলি আক্তার জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ২টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো কাটা পা উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে গুলিস্তান এলাকায় দুটি কাটা হাত এবং দুপুরে কমলাপুর এলাকায় আরও একটি পা ও মাথা উদ্ধার করা হয়। আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে দেহাংশগুলো ওবায়দুল্লাহর বলে শনাক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় তার এক রুমমেট শাহিন (২৪) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেহের অন্যান্য অংশ উদ্ধার করা হয়। তবে এখনও দেহের কিছু অংশ উদ্ধার হয়নি।
পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, খাবারের সঙ্গে নেশাজাতীয় কিছু মিশিয়ে অচেতন করে হত্যার পর দেহ টুকরো টুকরো করা হয়।
জানা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ বাড়িতে এসেছিলেন ওবায়দুল্লাহ। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে পরদিন ঢাকায় ফিরে যান। মৃত্যুর আগের রাতেও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল।
বর্তমানে উদ্ধার করা দেহাংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহতের মৃত্যুতে মা রানী বেগম ও বোন মিলি আক্তার বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় জমেছে। পরিবারের একটাই দাবি—এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

