আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ডাক্তারের প্রেসক্রিপশানে ওষুধ ব্যবসায়ীর জালিয়াতি, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন

উপজেলা প্রতিনিধি, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)

ডাক্তারের প্রেসক্রিপশানে ওষুধ ব্যবসায়ীর জালিয়াতি, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশানে ওষুধ ব্যবসায়ীর জালিয়াতির কারণে চুন্নু মিয়া(৪৮) নামে এক হৃদরোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় রোগী ওষুধ ব্যবসায়ী গোপাল চন্দ্র সূত্রধরের নামে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের গনেরগাঁও গ্রামের দরিদ্র চুন্নু মিয়া বুকে চাপ অনুভব করলে গত বছর ২ নভেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে টিকেট কেটে ডাক্তার দেখান। ডাক্তার শারিয়ার নাজিম পরীক্ষা নিরীক্ষা করে হৃদরোগ সনাক্ত করে ওষুধ লিখে দেন। রোগী চুন্নু মিয়া ডাক্তারের প্রেসক্রিপশান নিয়ে কটিয়াদী পুরাতন বাজার গুরুদেব ফার্মেসীতে ওষুধ কিনতে যান। ওষুধ ব্যবসায়ী গোপাল চন্দ্র সূত্রধরকে প্রেসক্রিপশান দেখিয়ে ওষুধ দিতে বলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রেসক্রিপশান দেখে ওষুধ না দিয়ে ডাক্তারের লেখা ওষুধ কলম দিয়ে কেটে সেই প্রেসক্রিপশানের উল্টা পৃষ্ঠায় তার দোকানে যে সব ওষুধ আছে মনমত লিখে রোগী চুন্নু মিয়াকে সেগুলো নিয়মমত খেতে বলেন। চুন্নু মিয়া প্রায় একমাস সেই ওষুধ সেবন করেন। তাতে শরীরে নানা রকম পার্শ্বপতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি গত ৪ জানুয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারকে অবহিত করেন। ডাক্তার চুন্নুমিয়াকে প্রেসক্রিপশান অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন।

রোগী চুন্নু মিয়া বলেন, আমি লেখাপড়া জানি না। ব্যবস্থাপত্র গুরুদেব ফার্মেসীতে নিয়ে গেলে দোকান মালিক ডাক্তারের লেখা কেটে নিজে ওষুধ লেখেন। সেগুলো খেতে বলেন। আমি তার দোকান থেকে প্রায় দুই হাজার টাকার ওষুধ নেই। সেই ওষুধ খেয়ে আমার অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। আমি প্রতারক গোপাল চন্দ্র সূত্রধরের বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে ওষুধ ব্যবসায়ী গোপাল চন্দ্র সূত্রধর বলেন আমি বিকম পাশ করেছি এবং প্রায় ৪০ বছর ধরে ওষুধের ব্যবসা করছি। রোগী ওই ওষুধ খেয়ে অনেকটা সুস্থ হয়েছিল। এখন অন্যের প্ররোচনায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন কেটে নিজে ওষুধ লেখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমার ভুল হয়েছে।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. শাহরিয়ার বলেন, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন জালিয়াতি করে ওষুধ বিক্রির ৪ জানুয়ারি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে সভাপতি করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...