ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর গোলচত্বর নামক বাসস্ট্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আরমান সরদার (৩৫) নামে এক পরিবহন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ ছাড়াও আজিজুল মিয়া ও ফরিদ উকিল নামের আরো দুজন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। এ ঘটনায় বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকাগামী বাস চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে,শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য আজমল হোসেন চৌধুরী ইথু ঢাকায় যাওয়ার জন্য শিবচরের পাঁচ্চর গোলচত্বরে যান। সেখানে গিয়ে তিনি একটি প্রাইভেটকার ভাড়া নিতে চান। প্রাইভেটকার ড্রাইভার চার হাজার টাকা ভাড়া দাবি করলে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।
এসময় ভাড়া নিয়ে প্রাইভেটকার চালকের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা বাধে । খবর ছড়িয়ে পড়লে আজমল হুদা চৌধুরী পক্ষের লোকজন এসে হাজির হয় গোলচত্বর বাস স্ট্যান্ড এলাকায়। এসময় উভয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বাসস্ট্যান্ডে ফারুক মোল্লা নামের এক ব্যক্তির অফিসে (পরিবহন সংশ্লিষ্ট) হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় গুলির ঘটনা ঘটলে ওই এলাকার নজরুল সরদারের ছেলে আরমান গুলিবিদ্ধ হয় বলে জানা গেছে। এবং চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণাৎ তাকে ঢাকা পাঠানো হয়।
তবে এ বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। এছাড়াও সংঘর্ষের সময় আহত আজিজুল মিয়া ও ফরিদ উকিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, পাঁচ্চর গোলচত্বরে শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাজু মোল্লার ছেলে ফারুক মোল্লা ৫ আগস্টের পর গোল চত্বরে একটি অফিস তৈরি করে নিজেদের পরিবহন ব্যবসায় পরিচালনা করেন।
তার অফিসের সামনেই একটি চক্র বাসস্ট্যান্ডে পরিবহনে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। সূত্রটি জানায়, পাঁচ্চর গোলচত্বরে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারেও নীরব চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। ফলে ঢাকাগামী পরিবহনে বাড়তি ভাড়ার বোঝা যাত্রীদের ওপর পরে।
মূলত, বিএনপি নেতা আজমল হুদা ইথু চৌধুরী ঢাকায় যাওয়ার জন্য প্রাইভেটকার ভাড়া করতে গেলে ভাড়ার পরিমাণ বেশি চাওয়া নিয়ে ওখানকার লোকজনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা বাধে। পরে তার হামলায় রুপ নেয়। এ সময় জিয়াউল হক জিয়া নামের এক ব্যক্তি গুলি করে বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। তবে এ বিষয়ে কোনো পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান ও শিবচর থানার ওসি আমির হোসেন সেরনিয়াবাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সিসি ফুটেজ সংরক্ষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং গুলিবিদ্ধ হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে বাসস্ট্যান্ড পরিবহন শূন্য হয়ে পড়ে। বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানতে চাইলে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন সেরনিয়াবাত বলেন, 'খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। এ বিষয়ে কোনো পক্ষই অভিযোগ দেয়নি এখনও। তাছাড়া গুলির বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। আমরা ভিকটিমকে পাইনি। তবে গুলি করার একটা গুঞ্জন উঠেছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানা যাবে।'
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

