কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় বিএনপি নেতা ও এসআই নিহত, আহত ২

কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় বিএনপি নেতা ও এসআই নিহত, আহত ২
বামে এসআই মিজানুর রহমান, ডানে রফিকুল ইসলাম । ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কালীগঞ্জে গভীর রাতে টহল চলাকালে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ও পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের আরো দুই সদস্য আহত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আহদের মধ্যে একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানের চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের সামনে টঙ্গী-ঘোড়াশাল মহাসড়কের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার) জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পুলিশের জানায় শুক্রবার রাতে কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় নিয়মিত টহল ও ওয়ারেন্ট তামিলের দায়িত্ব পালন করছিলেন এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। রাত সাড়ে তিনটার দিকে কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের সামনে মহাসড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। এ সময় একটি কাভার্ড ভ্যান পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে ধাক্কা দেয়।

এতে রফিকুল ইসলাম, এসআই মিজানুর রহমান, এএসআই জাবেদ ওমর এবং গাড়িচালক কনস্টেবল ফজলে রাব্বি আহত হন। ধাক্কায় এসআই মিজানুর রহমান কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে আটকে গেলে চালক তাকে টেনে আনুমানিক আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে দ্রুত ঘোড়াশালের দিকে চলে যান।

পরে স্থানীয় রিকশাচালক রকিবুল ও পথচারী ইমরুল কায়েস আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত তিনটার ৫৫ মিনিটে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লা কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি তুমলিয়া এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে।

গুরুতর আহত এসআই মিজানুর রহমান ও এএসআই জাবেদ ওমরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যদিকে কনস্টেবল ফজলে রাব্বিকে পাঠানো হয় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৬টা ৪৭ মিনিটে এসআই মিজানুর রহমান নিহত হন।

ঘটনার পরপরই কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পরিদর্শক (তদন্ত) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে কাভার্ড ভ্যান ও চালককে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হওয়ায় পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে তাদের পরিচয় এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানার চেষ্টা করছে।

এদিকে গভীর রাতে বিএনপি নেতার ওই স্থানে অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাত সাড়ে তিনটার দিকে মহাসড়কের পাশে তিনি কী কারণে সেখানে ছিলেন, কার সঙ্গে ছিলেন এবং পুলিশের টহল দলের কাছাকাছি কীভাবে উপস্থিত হলেন—এসব বিষয় নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন