গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অবরুদ্ধ

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অবরুদ্ধ

শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে (ভিসি) অবরুদ্ধ করে আন্দোলন করেছেন আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

এই বিভাগে ১৬ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র ৩ জন। আর এ কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে চরম সমস্যা হচ্ছে বলে তাদের দাবি।

সোমবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত উপাচার্যকে অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা । পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান খণ্ডকালীন (পার্ট টাইম) শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।

এদিকে দিনের পর দিন শিক্ষকের অভাবে ক্লাস কার্যক্রম না চলায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। শিক্ষকস্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থীরা ৩ থেকে ৪ বছরের সেশনজটে পড়েছেন। এতে তাদের চাকরির বয়সও শেষ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এই বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হওয়ার পর ৮ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো কোনো ব্যাচ পাস করে বের হতে পারেনি।

শিক্ষার্থী রমিক্স বাড়ৈ রুদ্র (২০২০-২০২১ সেশন) বলেন, ‘আমাদের ডিপার্টমেন্টে মাত্র তিনজন শিক্ষক আছেন, যেখানে থাকার কথা ১৬ জন। এই তিনজন শিক্ষক দিয়ে তো একটি ডিপার্টমেন্ট চলতে পারে না। এতে আমাদের নিয়মিত ক্লাস হয় না, আমরা কিছু শিখতেও পারছি না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বারবার শিক্ষকের কথা বলেছি, তারা শুধু আশ্বাসই দিয়েছে।’

আরেক শিক্ষার্থী শোয়েবুল আলম (২০২০-২০২১ সেশন) বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের কারণে আমাদের সেশনজট বাড়ছে। ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীরা ৩ থেকে ৪ বছরের সেশনজটে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাবে কিন্তু পড়াশোনা শেষ হবে না। আমাদের সেমিস্টারের মেয়াদ ৬ মাস হলেও একেকটি সেমিস্টার শেষ হতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগছে। এভাবে ১০টি সেমিস্টার শেষ হতে ১০ থেকে ১২ বছর লেগে যাবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, ইউজিসিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখনো ইউজিসি থেকে অনুমতি পাওয়া যায়নি। অনুমতি পেলে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা স্বীকার করে তিনি আরো বলেন, ‘২০১৮ সালে যারা এই ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়েছেন, তারা এখনো পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। শিক্ষকের সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা মারাত্মক ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। তাই যতদিন পর্যন্ত স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া না যাবে, তত দিন পাঁচজন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালিয়ে নেওয়া হবে।’

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন