টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারি বন বিভাগের জমিতে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা শাল-গজারি গাছ কেটে করাতকলে পাচারের অভিযোগ উঠেছে একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে দেওহাটা কাঠের হাট থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক শাল-গজারি গাছ জব্দ করে।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার দেওহাটা কাঠের হাটে একটি ট্রাক থেকে পাচার করা গজারি গাছ নামানো হচ্ছিল। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই কাঠের হাটে বনাঞ্চলের শাল-গজারি গাছ ও চেরাই কাঠের অবৈধ বেচাকেনা চলে আসছে। এদিন সন্ধ্যায় একটি ট্রাকভর্তি গজারি গাছ হাটে আনা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, একটি ট্রাক থেকে দুই যুবক তড়িঘড়ি করে গাছ নামাচ্ছিলেন। গাছগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছে এবং মালিক কে এমন প্রশ্ন করা হলে ট্রাকে থাকা এক ব্যক্তি নিজেকে শ্রমিক পরিচয় দিয়ে বলেন, তারা শুধু গাছ নামানোর কাজ করছেন। গাছের মালিক বা উৎস সম্পর্কে কিছু জানেন না। পরে তারা দ্রুত গাছগুলো নামিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
খবর পেয়ে দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাদিকুর রহমান, উপপরিদর্শক কবিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে গাছের মালিকের সন্ধান করেন এবং ট্রাকটি আটকের চেষ্টা চালান। পরে বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হলে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাঠের হাট থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক গজারি গাছ জব্দ করেন।
গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বলেন, রাতে আনোয়ার নামে এক কাঠ ব্যবসায়ী একটি ট্রাকে করে গজারি গাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে দেওহাটা কাঠের হাটে নিয়ে আসে। পরিস্থিতি ঘোলাটে বুঝতে পেরে গাছ ফেলে পালিয়ে যায়।
মির্জাপুরের বাঁশতৈল রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক অমি আক্তার বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে এসে অভিযান চালানো হয়েছে। বর্তমানে বন বিভাগের কোনো শাল-গজারি গাছ নিলামে বিক্রি হচ্ছে না। জব্দ করা গাছগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

