কিশোরগঞ্জ–৪ (ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রাম) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার আসরের নামাজের পর কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদ চত্বরে ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রাম ইসলামী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এই সমাবেশ হয়।
সমাবেশে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হুসাইন। তিনি বলেন, ফজলুর রহমান বিভিন্ন টকশো ও সামাজিক মাধ্যমে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা আলেম–উলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তার উল্লেখযোগ্য কিছু মন্তব্যের বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে—
১. টঙ্গির বিশ্ব ইজতিমার মাঠকে তিনি জঙ্গি তৈরির জায়গা হিসেবে মন্তব্য করেছেন। ২. আলেম–উলামাদের পরিবার নিয়ে অশালীন ও ধর্মবিরোধী কথা বলেছেন। ৩. তিনি দাবি করেছেন, মুহাম্মদ (সা.) নাকি কারো নেতা নন—যা মুসলিম সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। ৪. সামাজিক মাধ্যমে নিজ ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন। ৫. নির্বাচনে হেরে গেলে আত্মহত্যার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। ৬. আইসিটি ট্রাইব্যুনালসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এমন বিতর্কিত অবস্থান ও আচরণের কারণে হাওরবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে তাকে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। প্রাথমিক মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করে ধর্মপ্রাণ ও গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় ইসলামপ্রিয় জনতাকে সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণের কথা জানান।
এ সময় বক্তারা বলেন, আল্লামা আতহার আলী (রহ.)সহ ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে আসছেন কানকাটা ফজলু, যা কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। তারা আরও বলেন, ফজলু সাবধান, এভাবে চলতে থাকলে তোমার পরিণতিও একদিন তসলিমা নাসরিনের মত হতে পারে।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন—সংগঠনের সদস্য সচিব মাওলানা উবায়দুল হক, সদস্য তাওহীদুর রহমান ফারুকী, মাওলানা এনাফুলকে হাক্কানী, মাওলানা কফিল উদ্দিন, মাওলানা শুহাইল প্রমুখ।

