জনমনে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ

ধুনটে সড়কের মধ্যে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই কার্পেটিং

উপজেলা প্রতিনিধি, ধুনট (বগুড়া)

ধুনটে সড়কের মধ্যে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই কার্পেটিং
ছবি: আমার দেশ

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান সড়ক নির্মাণ কাজে রাস্তার মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই কার্পেটিং করা হয়েছে। ফলে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা। এতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে জনমনে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

সোমবার সকাল ১১টায় সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের চক ডাকাতিয়া গ্রামে বৈদ্যুতিক ৩টি খুঁটি রয়েছে রাস্তার মধ্যে। কয়েক দিন আগে রাস্তার এই অংশে কার্পেটিং করা হয়েছে। এ কাজ করতে গিয়ে এসব খুঁটি রাস্তার মধ্যেই থেকে গেছে। এসব খুঁটিতে ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইনসহ বিভিন্ন বাসা-বাড়ির সংযোগ রয়েছে। উন্নয়নের নামে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হলেও সেই উন্নয়নই এখন জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদরের হরিপুর হতে কাজিপুর উপজেলার পাইকপাড়া-ঢকঢগিয়া পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার সড়ক। এই সড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটার অংশ ধুনট উপজেলা এলাকায়। গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) থেকে ২১ কিলোমিটর দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্থ সড়কটি পাকা করণের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে সড়ক নির্মাণ কাজে বিলম্ব হয়েছে।

অবশেষে কয়েক মাস ধরে সড়কটি কার্পেটিং করা হচ্ছে। সড়কটির নির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্বে রয়েছে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সড়কটির প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সড়কের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকার কারণে চলাচল করতে গিয়ে নতুন করে দুর্ভোগ পোহাতে হবে হাজার হাজার পথচারীর। খুঁটির কারণে সড়কটি সরু হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনারও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ব্যবসায়ী হোসেন আলী বলেন, সড়কের মধ্যে বৈদ্যুতিক ৩টি খুঁটি রেখে ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এতে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। ১৮ ফুটের সড়ক করে তো লাভ হলো না। এ ছাড়া যে কোনো মুহূর্তে এটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণও হতে পারে। সড়ক উন্নয়নই যেন হয়ে উঠেছে নতুন বিপদের কারণ। সড়ক থেকে দ্রুত বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের দাবি জানান তিনি।

বগুড়া পল্লী বিদ্যূৎ সমিতির ধুনট জোনাল অফিসের ডিজিএম কামাল পাশা বলেন, সড়কের মাঝের বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানান্তরের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে প্রাক্কলন তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে খুঁটিগুলো সরানো হবে।

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, সড়ক থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের জন্য অনুমোদন পেয়েছি। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে আমার খরচের টাকা পাঠিয়ে দিব। দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁটি সরানো হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন