সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে বনদস্যুদের কবলে পড়া ২১ জেলের চার দিনেও কোনো সন্ধান মেলেনি। স্বজনদের উৎকণ্ঠার মধ্যেই অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে কোস্ট গার্ড। দস্যুদের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্তে আকাশপথে ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারিও করা হচ্ছে।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা নৌপথে একাধিক দল নিয়ে সম্ভাব্য এলাকাগুলোতে অভিযান চালাচ্ছেন। পাশাপাশি জেলেদের নিরাপত্তায় বন বিভাগের নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নারকেলবাড়িয়া, আমড়ারিয়া, ভদ্রা ও ভাঙ্গা এলাকায় পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় মজনু, করিম শরীফ ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা জেলেদের ধরে নিয়ে যায় বলে সূত্র জানিয়েছে।
এ ঘটনায় মোট ২১ জেলেকে অপহরণের পাশাপাশি একটি মাছ ধরার ট্রলার ও পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
অপহরণের পর থেকেই জেলেদের পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট মহাজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। দস্যুদের ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না। পরিচয় প্রকাশের কারণে পরবর্তীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর মধ্যেই অপহৃত জেলেদের কয়েকজন মহাজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, জেলেদের ফেরাতে দস্যুদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ চলছে। মুক্তিপণ হিসেবে কত টাকা চাওয়া হয়েছে, তা নিরাপত্তার কারণে তারা প্রকাশ করেননি।
মহাজনদের দাবি, জেলেদের মুক্তির বিষয়ে দস্যুদের সঙ্গে আলোচনা ও দর-কষাকষি চলছে। টাকা পরিশোধ করা হলে জেলেদের ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত অর্থ পরিশোধের জন্য তাদের চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, ২১ জেলে অপহরণের ঘটনায় সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া অন্য জেলেদের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকেই দস্যু আতঙ্কে বনে যাওয়ার বিষয়ে দ্বিধায় পড়েছেন। তাদের দাবি, দস্যুদের তৎপরতা বন্ধের পাশাপাশি জেলেদের নিরাপদে মাছ ধরার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, অপহৃত জেলেদের এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ডের অভিযান চলছে।
সুন্দরবনে থাকা জেলেদের সতর্ক করে তিনি রাতে দলবদ্ধভাবে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বন অফিসের আশপাশে থাকার কথাও বলা হয়েছে। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগের স্টেশন, টহল ফাঁড়ি ও দায়িত্বে থাকা বনরক্ষীদের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চার দিন পেরিয়ে গেলেও ২১ জেলের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় স্বজনদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে সুন্দরবনের সম্ভাব্য এলাকাগুলোতে কোস্ট গার্ডের অভিযান ও ড্রোন নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

