মৃত্যুর ৫ বছর পরও মাদরাসা সভাপতির স্বাক্ষরে নিয়োগ বাণিজ্য

মৃত্যুর ৫ বছর পরও মাদরাসা সভাপতির স্বাক্ষরে নিয়োগ বাণিজ্য

মৃত্যুর পাঁচ বছর পর নথিপত্রে মাদরাসা সভাপতির ‘অলৌকিক’ স্বাক্ষরে ব্যাকডেটে (পেছনের তারিখে) নিয়োগ বাণিজ্য করে প্রায় ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পারফলসি দাখিল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির সুপার ইয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল, নথি জালিয়াতি করে ব্যাকডেটে আটজন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঝিনাইদহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মাদরাসার মূল জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খলিলুর রহমান ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। অথচ অভিযোগ উঠেছে, ইয়ারুল ইসলাম ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানে এসে জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেকে ২০০৪ সাল থেকে কর্মরত দেখান। আর এই জালিয়াতিকে বৈধতা দিতে তিনি ২০১১ সালে মারা যাওয়া সভাপতি খলিলুর রহমানের স্বাক্ষর হুবহু জাল করেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে ইয়ারুল ইসলাম নতুন চক্রান্তের আশ্রয় নেন। ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বরের একটি ভুয়া যোগদানপত্র তৈরি করে সেখানে মাদরাসার সহকারী শিক্ষক ইয়াসমিন সুলতানাকে ‘ভারপ্রাপ্ত সুপার’ দেখিয়ে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইয়াসমিন সুলতানা কখনোই ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব পালন করেননি এবং ওই পদে তার কোনো অফিশিয়াল সিল বা স্বাক্ষরও ছিল না। ২০২২ সালে মাদরাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর শিক্ষকদের বিভিন্ন ফর্মে স্বাক্ষর নেওয়ার সুযোগে ইয়ারুল ইসলাম চতুরতার সঙ্গে এই ভুয়া যোগদানপত্র নথিভুক্ত করেন।

২০২২ সালে পারফলসি দাখিল মাদরাসাটি এমপিওভুক্ত হলে ইয়ারুল ইসলামের জালিয়াতি পূর্ণরূপ নেয়। এমপিওভুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যাকডেটে অন্তত আটজন শিক্ষক-কর্মচারীকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেন তিনি। এসব পদের বিপরীতে তিনি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগে উঠে এসেছে।

মিজানুর রহমান নামে এক সচেতন নাগরিকের পক্ষে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল, সরকারি নথি জালিয়াতি এবং ব্যাকডেটে স্বাক্ষর জাল করে অবৈধ নিয়োগের মাধ্যমে এই দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সুপার ইয়ারুল ইসলাম বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘যা হওয়ার হয়েছে। এখন মাদরাসাটির যেন ক্ষতি না হয় সে ব্যাপারে কী করা যায়, সেটা আমাদের ভাবতে হবে।’

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন