কুষ্টিয়ার মিরপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য সাহাবুল ইসলাম মন্ডল নামে একজনকে হত্যার দায়ে ৪ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে দণ্ডপ্রাপ্তদের (প্রত্যেককে) বিশ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মিরপুর উপজেলার মিটন পশ্চিমপাড়া এলাকার মহিন প্রামানিকের ছেলে আসাদুল প্রামানিক কালু, মাঝিরহাট খাঁপাড়া এলাকার মসলেম মোল্লার ছেলে আবু তাহের, মিটন পশ্চিমপাড়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে হাবিল হোসেন এবং মিটন পশ্চিমপাড়া এলাকার ওমর আল এর ছেলে মিলন।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই রায় ঘোষণা করেন কুষ্টিয়ার দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. এনায়েত কবির সরকার। রায় প্রদানকালে চারজন আসামির মধ্যে আবু তাহের ব্যতীত অপর তিন আসামি উপস্থিত ছিলেন। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. খন্দকার সিরাজুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. মো. এনামুল হক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের শিকার সাহাবুল ইসলাম মন্ডল ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের ২০ তারিখ বিকেল ৩টার দিকে তার ছেলেকে নিয়ে স্থানীয় মোড়ে বাজার করতে যান। পরে ছেলেকে বিকেল ৫টার দিকে ব্যাগসহ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর রাতে পরিবারের সদস্যরা তার (সাহাবুল) খোঁজ না পেয়ে মোবাইলে ফোন দেয়, ফোন বাজলেও রিসিভ করেনি কেউ।
পরদিন স্থানীয় লোকজন বুরাপাড়া প্রাইমারী স্কুলের পিছনের একটি ধৈঞ্চা ক্ষেতের আইলের উপর সাহাবুল ইসলাম মন্ডলের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল পাঠায় পুলিশ। একই দিন হত্যাকাণ্ডের শিকার সাহাবুল ইসলাম মন্ডলের স্ত্রী মোছা. সুমি খাতুন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে এজাহার দায়ের করেন মিরপুর থানায়। মামলা নং-২৫, ২১.১০.২০১৯। (দায়রা মামলা নং-১৩০৯/২০২০। জি,আর মামলা নং-২৭৩/২০১৯)। সার্বিক তদন্ত শেষে ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র জমা দেন মিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম জাবীদ হাসান। ০৬.১০.২০২১ তারিখে The Penal Code, ১৮৬০ এর Section ৩০২ এর সাথে পঠিত Section ৩৪ এর অধীনে অভিযোগ গঠন করা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।
পাবলিক প্রসিকউটর অ্যাড. খন্দকার সিরাজুল ইসলাম আমার দেশকে জানান, মিরপুরে সাহাবুল ইসলাম মন্ডল নামে একজনকে হত্যার দায়ে ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে দণ্ডপ্রাপ্তদের (প্রত্যেককে) বিশ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন দায়রা জজ আদালতের বিচারক।
তিনি আরো বলেন, গ্রাম্য দলাদলির কারণে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

