কুষ্টিয়ার খোকসায় এক রাতে নৈশপ্রহরী ও ব্যবসায়ীদের হাত-পা বেঁধে তিনটি স্বর্ণের দোকানসহ ৫ দোকানে ডাকাতি হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার একতারপুর বাজারে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
নৈশপ্রহরীরা জানান, সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ডাকাত দল বাজারে হানা দেয়। এ সময় একে একে চারজন নৈশপ্রহরী ও দুই ব্যবসায়ীকে ধরে এনে ওবায়দুলের চায়ের দোকানের ভেতর হাত-পা বেঁধে বসিয়ে রাখে । পরে ডাকাতরা প্রাণতোষ বিশ্বাসের পূর্ণ জুয়েলার্সের দুটি শোরুম ও কারখানার তালা ভেঙে লকারে রাখা প্রায় ২০ ভরি রূপা, নগদ ২৫ হাজার টাকা ও কয়েক ভরি পুরোনো স্বর্ণের গহনা নিয়ে যায়। রাত একটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে মানিক জুয়েলার্স, ঈশানী বিউটি কসমেটিকস, মেকার হান্নান শেখ ও ওবায়দুলের দোকানের কয়েকটি মুঠোফোন ও নগদ ১২ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
নৈশপ্রহরীরা আরও জানান, ডাকাত দলটিতে ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য ছিল। তাদের প্রত্যেকের মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। ডাকাতদের কাছে রাইফেল ও ধারালো অস্ত্র ছিল। ডাকাতি শেষে দুজন নৈশপ্রহরীকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শৈলডাঙ্গী মহাশ্মশান পর্যন্ত নিয়ে যায় তারা।
ব্যবসায়ী প্রাণতোষ বিশ্বাস বলেন, রাতে দোকান বন্ধের সময় বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে রেখে যান তিনি। তা সত্ত্বেও ডাকাতরা তার দোকানের সবগুলো সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেছে। এ ছাড়া তার দুটি শোরুম ও কারখানার লকারের কয়েকটি ড্রয়ার ভেঙে কয়েক ভরি পুরোনো গহনা, ২০ ভরি খাঁটি রূপা এবং ক্যাশ ড্রয়ারে থাকা ২৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।
বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান শেখ (পাখি ভ্যানের মেকার) জানান, তিনি ত্রিশ বছর ধরে ব্যবসা করছেন, কিন্তু এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। ডাকাতরা তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে নৈশপ্রহরীদের সঙ্গে বেঁধে রাখে। তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ও মুঠোফোনটি নিয়ে যায় তারা।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন জানান, একতারপুর বাজারের কয়েকটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে, তবে এখনো কোনো মামলা হয়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ আটকও হয়নি।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

