ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সামনে রেখে খুলনা জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছয়টি আসনে মোট ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ৩৫ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন কারণে ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর আগে এ ছয়টি আসনের জন্য মোট ৫৪ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।
খুলনা–১ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বৈধ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবু সাঈদ, বিএনপির আমির এজাজ খান, জামায়াতে ইসলামীর কৃষ্ণ নন্দী, খেলাফত মজলিসের ফিরোজুল ইসলাম, জেএসডির প্রসেনজিৎ দত্ত, বাংলাদেশ মাইনোরিটি জাতীয় পার্টির প্রবীর গোপাল রায়, বাংলাদেশ সম অধিকার পরিষদের সুব্রত মন্ডল, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কিশোর কুমার রায়, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সুনীল শুভ রায় এবং জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
বাতিল প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের জিএম রোকনুজ্জামান, স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ হালদার ও অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল।
খুলনা–২ আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। রোববার যাচাই-বাছাই শেষে সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরের সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নগর সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ এবং খেলাফত মজলিসের মো. শহিদুল ইসলাম। এ আসনে কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়নি।
খুলনা-৩ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আঃ আউয়াল, বিএনপির রকিবুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মুরাদ খান লিটন ও মঈন মোহাম্মদ মায়াজ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর জনার্দন দত্ত, খেলাফত মজলিসের এফ. এম. হারুন অর রশিদ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) এর শেখ আরমান হোসেন এবং জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। মনোনয়ন বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন আব্দুল রউফ মোল্লা, মো. আবুল হাসনাত সিদ্দিক ও এস. এম. আরিফুর রহমান মিঠু।
খুলনা-৪ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে চারজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইউনুস আহম্মেদ শেখ, বিএনপির এস. কে. আজিজুল বারী, খেলাফত মজলিসের এস. এম. সাখাওয়াত হোসাইন এবং জামায়াতে ইসলামীর মো. কবিরুল ইসলাম। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস. এম. আজমল হোসেনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
খুলনা-৫ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির চিত্ত রঞ্জন গোলদার, জামায়াতে ইসলামীর মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির মোহাম্মদ আলী আসগার এবং খেলাফত মজলিসের মো. আব্দুল কাইয়ুম জমাদার। এ আসনে জাতীয় পার্টির শামীম আরা পারভীন (ইয়াসমীন) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মুজিবুর রহমানের এর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
খুলনা-৬ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির এস. এম. মনিরুল হাসান (বাপ্পী), জামায়াতে ইসলামীর মো. আবুল কালাম আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আছাদুল্লাহ ফকির এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রশান্ত কুমার মণ্ডল। এ আসনে জাতীয় পার্টির মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আছাদুল বিশ্বাসের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
মনোনয়ন বাছাই শেষে খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আ স ম জামশেদ খোন্দকার জানান, বাছাইয়ে যারা বাদ পড়েছেন তারা ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপীল করতে পারবেন। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় নির্ধারিত আছে। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পরে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

