সুন্দরবনে অপহৃত ২১ জেলে ১২ দিনেও উদ্ধার হয়নি

সুন্দরবনে অপহৃত ২১ জেলে ১২ দিনেও উদ্ধার হয়নি

সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ২১ জেলে ১২ দিনেও উদ্ধার হয়নি। সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক হামলা চালিয়ে তাদের অপহরণ করা হয়। উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে জেলে পরিবারগুলোতে।

বিজ্ঞাপন

অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগ অভিযান চালানোর কথা জানালেও ১২ দিনেও তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি। দস্যুদের সম্ভাব্য আস্তানা শনাক্তে নৌপথে তল্লাশির পাশাপাশি ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। কিন্তু এত তৎপরতার পরও ২১ জেলের কোনো হদিস না মেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা ও কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করা হয়েছে এমন দাবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বারবার বলা হলেও বাস্তব চিত্র যেন ভিন্ন। জেলে অপহরণের মতো ঘটনায় দিনের পর দিন কেটে গেলেও অপহৃতদের অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে নারকেলবাড়িয়া, আমবাড়িয়া, ভদ্রা ও ভাঙা এলাকায় মাছ ধরার সময় জেলেদের ওপর হামলা চালানো হয়। এসব ঘটনায় মজনু, করিম শরীফ ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা জেলেদের অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় একটি মাছ ধরার ট্রলার, পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামালও লুটে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

অপহরণের পর থেকেই জেলেদের পরিবার ও মহাজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা চরমে উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মহাজন জানান, জেলেদের মুক্তির জন্য দস্যুদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ ও দর-কষাকষি চলছে।

পূর্ব সুন্দরবনের ডিএফও (বিভাগীয় বন কর্মকর্তা) মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুন্দরবনে অবস্থানরত জেলেদের রাতে দলবদ্ধভাবে থাকার এবং বন অফিসের আশপাশে অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের স্টেশন ও টহল ফাঁড়িগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন