ট্রেলিগ্রাম বৈঠকে উপজেলা আ.লীগের কমিটি ঘোষণা হাসিনার, গোয়েন্দারা অন্ধকারে

ট্রেলিগ্রাম বৈঠকে উপজেলা আ.লীগের কমিটি ঘোষণা হাসিনার, গোয়েন্দারা অন্ধকারে

একাধিক রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি এড়িয়ে ভারত থেকে সরাসরি ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে টেলিগ্রামে গোপন ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেছেন গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ‘বঙ্গবন্ধু মঞ্চ’ নামের একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে। বৈঠকে কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ছাড়াও ঝিনাইদহ সদরের নলডাঙ্গা, ঘোড়শাল, মহারাজপুর ও ফুরসন্ধি ইউনিয়নসহ মোট ১৫টি ইউনিয়ন এবং কালীগঞ্জ পৌরসভার নেতাকর্মীরা পর্যায়ক্রমে অংশ নেন।

বৈঠকে সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের মৃত্যুর কারণে দীর্ঘদিন শূন্য থাকা কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে সাবেক এমপি প্রয়াত আব্দুল মান্নানের স্ত্রী শামীম আরা মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আইয়ূব হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয় বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই অনলাইন বৈঠকের বিষয়ে স্থানীয় কিংবা জেলা পর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। সীমান্তের ওপারে অবস্থান করে শেখ হাসিনা কী ধরনের কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তা শনাক্ত বা ট্র্যাক করা সম্ভব না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও সচেতন মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শেখ হাসিনা তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ওই নেতা জানান, বর্তমান সরকারের সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিপর্যয় এবং চরম সার সংকটের বিষয়গুলো গ্রামে গ্রামে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে জোর প্রচারণার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বৈঠকে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে প্রতিনিধি ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন।

‘বঙ্গবন্ধু মঞ্চ’ নামের টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত ওই অনলাইন বৈঠকে মোট ৬০ জনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে দুজন অনুপস্থিত থাকায় ৫৮ জন বৈঠকে অংশ নেন বলে জানা গেছে। বৈঠকটি চারজন মডারেটর পরিচালনা করেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রিগান, মোস্তাক আহম্মেদ লাভলু ও আলাল হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ওই অনলাইন বৈঠকের খবর ফেসবুকে শেয়ার করেন। এরপর বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।

শেখ হাসিনার অনলাইন বৈঠকের বিষয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশিস বিন্ হাছানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ধরনের কোনো রাজনৈতিক জুম বৈঠক বা গোপন সমাবেশের তথ্য তাদের জানা নেই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন