ধান কাটা নিয়ে বিরোধে খুলনার তেরখাদা উপজেলার মধুপুর গ্রামে বিএনপির দুগ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
শনিবার সকালে বিএনপির অ্যাডভোকেট শহিদুল গ্রুপ ও সাইফুল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হলে নুর আলম (৫৬) নিহত হন। নুর আলম মধুপুর গ্রামের ইকরাম শেখের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, বিরোধপূর্ণ জমির ধান কাটাকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে প্রথম কথা কাটাকাটি হয়। এরপর তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন।
নিহত নুর আলমের চাচাতো ভাই মুকুল জানান, সকালে তার ভাইসহ অন্যরা স্থানীয় আশরাফ শেখের জমির ধান কাটতে যাচ্ছিলেন। জমি নিয়ে পূর্ব থেকে বিরোধ থাকায় ইদ্রিস মোল্লার নেতৃত্বে প্রতিপক্ষ তাদের বাধা দেয়। তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে ইদ্রিস মোল্লার লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করলে নুর আলমসহ চার-পাঁচজন আহত হন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসারত অবস্থায় নুর আলম মারা যান।
সংঘর্ষে আহত হন হিজমুল্লাহ সোহেল রানা (৪০), নূর শেখ (৫৫), মুসা শেখ, মফিজুর রহমান (৪৫) ও আলী হুসাইন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, ইদ্রিস মোল্লা বিএনপি নেতা শহিদুলের অনুসারী এবং নুর আলম ও জমির মালিক আশরাফ শেখ সাইফুলের অনুসারী। স্থানীয় নানা ইস্যুতে দুগ্রুপ পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকে। ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ঘটনায় এ দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা সংঘাত হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, তেরখাদায় বিবদমান দুগ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

