ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামের বহুল আলোচিত সাড়ে তিন বছরের শিশু সাইমা আক্তার সাবা হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি শান্তনা খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঝিনাইদহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক হেলাল উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বুধবার সকাল ৮টার দিকে পবহাটি গ্রামের সাইদুল ইসলামের সাড়ে তিন বছরের মেয়ে সাইমা আক্তার সাবা খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা আশপাশের বিভিন্ন পুকুরসহ বিভিন্ন স্থানে দিনভর খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান পায়নি।
ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই গ্রামের প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান মাসুমের ঘরের ভেতর থেকে শিশু সাবার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মাসুমের স্ত্রী শান্তনা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত শেষে ঝিনাইদহ সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোজ কুমার ঘোষ ঘটনার ২৭ দিনের মাথায়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, শান্তনা খাতুন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শিশু সাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন তার ছেলে আবু জুবায়েরের সঙ্গে খেলতে গিয়ে সাবার মারামারি হয়। একপর্যায়ে সাবার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে লাশ ঘরের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়।
মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষী রাখা হয়। বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এ-পিপি) অ্যাডভোকেট কাজী একরামুল হক এবং রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট আশরাফ জোয়ার্দ্দার দায়িত্ব পালন করেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার আদালত মামলার একমাত্র আসামি শান্তনা খাতুনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

