আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

শরীয়তপুর-২

৩৯ কেন্দ্রে ভোট স্থগিতের দাবি জামায়াতের, যা বললেন ডিসি

প্রতিনিধি, শরীয়তপুর

৩৯ কেন্দ্রে ভোট স্থগিতের দাবি জামায়াতের, যা বললেন ডিসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে ভোটগ্রহণ শেষে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আসনের ৩৯টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিতের আবেদন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেন। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানিয়েছেন, নির্বাচন স্থগিত করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার বিকেলে প্রার্থীর পক্ষে প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোয়াজ্জেম হোসেন মিলন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন। একইদিন বিকাল ৪টায় সখিপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের গৌরাঙ্গ বাজার এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ হোসেন অভিযোগগুলো বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ হোসেন দাবি করেন, নড়িয়া ও সখিপুরের বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান, এক ব্যক্তির ভোট অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে প্রদান, বুথে নির্দিষ্ট প্রতীকে প্রকাশ্যে সিল মারতে বাধ্য করা এবং বিরোধী প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল মারা হয়েছে। আমাদের এজেন্টদের অনেক কেন্দ্রে থাকতে দেওয়া হয়নি। কয়েকটি স্থানে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলাও হয়েছে।

লিখিত আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনের আগের রাতে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং এলাকা ছাড়ার চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা এবং অর্থের প্রলোভন দেখানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে।

জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য, প্রিসাইডিং অফিসার ও মোতায়েনকৃত সেনাবাহিনীকে বিষয়গুলো জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, সেনাবাহিনী রাস্তায় টহল দিলেও অনেক ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ না করে স্বল্প সময় অবস্থান করে চলে গেছে, ফলে অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ৩৯টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে পুনঃভোটের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী শফিকুর রহমান অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, শরীয়তপুর-২ আসনের ১৩৬টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জামায়াত প্রার্থী কোনো কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি।

তার দাবি, ভোটের শেষ মুহূর্তে পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে এখন ভোট স্থগিতের হাস্যকর দাবি তোলা হচ্ছে। এলাকার মানুষ এটি মেনে নেবে না।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, জামায়াত প্রার্থীর আবেদন তিনি পেয়েছেন। তবে আবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর মতো গুরুতর কোনো ঘটনা নির্বাচনী এলাকায় ঘটেনি বলে প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, ভোট স্থগিত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

শরীয়তপুর-২ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মাঠের লড়াই মূলত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেন ও বিএনপি প্রার্থী শফিকুর রহমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল বলে স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নড়িয়া উপজেলা ও সখিপুর থানার ১৩৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভোট-পরবর্তী এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন আবেদনটি কীভাবে বিবেচনা করে—সেদিকেই তাকিয়ে আছে শরীয়তপুর-২ আসনের ভোটাররা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন