চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে জামায়াতের তালিম উল কোরআন প্রশিক্ষণ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ ঘটনার রেশ টানতে একদিন পর দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন রোববার বিকাল ৪টায় তার দপ্তরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে মীমাংসার জন্য ডাকেন। ওই সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিবেশ তৈরি হলে মীমাংসা ভেস্তে যায়।
উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গত শনিবার দুপুরে উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে কোনো অনুমতি না নিয়ে মহিলাদের জড়ো করে তালিম উল কোরআন প্রশিক্ষণ দেওয়ার কারণে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করা হয়। এই প্রতিবাদের কারণে সেখানে উপস্থিত দুপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিও হয়।
জামায়াতের নেতারা দাবি করে, কোরআন প্রশিক্ষণ বিষয়ে তাদের কর্মকাণ্ড হবে তাতে বাধা কীসের। নিয়ম মেনেই এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
এ বিষয়টির পর 'জুলাই সনদ' একটি ফেক আইডি থেকে দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়াকে নিয়ে একটি 'পরকীয়া' সংক্রান্ত পোস্ট দেওয়া হয়। এই পোস্টটি শেয়ার করে কুনিয়াচাঁদপুর গ্রামের আজিজের ছেলে ও দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড শিবিরের সভাপতি সুমন। সেই শেয়ারের পর বিএনপির ক্ষুব্ধ কর্মীরা সুমনকে তার দোকান থেকে এনে মারধর করে। এরপর সুমন উপজেলা স্বাস্থকেন্দ্রে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এদিন মীমাংসা সভায় সুমনকে মারধরের বিষয়টি উত্থাপন করে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবেদ উদ দৌলা টিটন। সেটার প্রতিবাদ করে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীরা। মিছিল করতে আসার সময় উপজেলার ভিতরে নসিমন নামক গাড়িতে ১৫ জন প্রবেশ করলে ঠাকুরপুর গ্রামের আব্দুল মালেক (৩৯), আনারুল (৫০), সদাবরী গ্রামের এনামুল (৩২)সহ ১৭ জনকে হাতুড়ির মুগুর ও কুড়ালের উল্টাপিঠ দিয়ে মেরে জখম করে। এরা ৩ জন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড শিবিরে সভাপতি সুমনকে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তুলে দেউলি মোড়ের ক্লাবের মধ্যে নিয়ে এসে মেরে আহত করে।
তালিম উল কোরআন প্রশিক্ষণে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে রবিবার বাদ আছর একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হলে, বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপজেলা শহরে জড়ো হয়। এর ফলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতি এদিন রাত ৭টা পর্যন্ত চলে।
দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু বলেন, মডেল মসজিদ একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় হতে পারে না। এবার হাতেনাতে ধরার পরও তারা বিষয়টি অস্বীকার করে। আমরা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে মিটিং করতে চাইলে কর্তৃপক্ষ আমাদের অনুমোদন দেয় না। এরা ফেক আইডি ব্যবহার করে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চরিত্র হনন করছে।
আর ওই চরিত্র হননের বিষয়গুলো ওই দলের নেতাকর্মীরা তাদের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকায় শিবির নেতা সুমনকে আটক করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। সুমনকে পুলিশ ছেড়ে দিলে সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে বিএনপির পক্ষ থেকে বিক্ষোভ চলবে।
অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারিক উজ-জামান, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম, সহকারী কমিশনার আলাউদ্দিন আল আজাদ ও বাহার চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন আহম্মেদ এবং অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আজাদ রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অবস্থান নেন।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন জানান, মডেল মসজিদ পরিচালনার যে দায়িত্বে আছেন তার নির্বুদ্ধিতার কারণে শনিবার একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছিল। যার জন্য মৌখিকভাবে আমি তাকে শোকজ করেছি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই পরে আমি শুনতে পারি জামায়াতের নেতৃবৃন্দ আমার সঙ্গে কথা বলতে চান, আমি তাদের কথা বলার জন্য ডাকি। তাদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে আমি হঠাৎ করে শুনতে পাই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কীভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো তা পরবর্তীকালে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

