আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভোটের অঙ্কে জটিল সমীকরণ

মফিজুর রহমান (মোল্লাহাট) ও শেখ মিরানুজ্জামান, বাগেরহাট

বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভোটের অঙ্কে জটিল সমীকরণ
ছবি: আমার দেশ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাট-১ আসনজুড়ে (মোল্লাহাট-ফকিরহাট-চিতলমারী) শুরু হয়েছে নানা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ ও জল্পনা-কল্পনা। বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে চারজন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবারের নির্বাচন হয়ে উঠেছে বেশ জমজমাট। কে হবেন এ আসনের পরবর্তী সংসদ সদস্য—তা নিয়ে ভোটারদের মাঝেও চলছে তুমুল আলোচনা।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল। আসনটিতে প্রায় এক-চতুর্থাংশ হিন্দু ভোটার থাকার কারণে তিনি নিজের অবস্থানকে শক্ত মনে করছেন। তার নির্বাচনি প্রচারে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। বিএনপির সমর্থক ভোটব্যাংক ও সংখ্যালঘু ভোটের একটি বড় অংশ তার পক্ষে আসবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করছেন তার সমর্থকরা।

বিজ্ঞাপন

তবে কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন নিজ দলেরই সাবেক দুই নেতা, যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি মাঠে নেমেছেন। এতে বিএনপির ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দলীয় প্রার্থীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির সাবেক নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম। তিনি এর আগে বাগেরহাট-২ (সদর) আসনের এমপি ছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এলাকায় তার আলাদা পরিচিতি ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা তাকে একটি শক্ত অবস্থানে রেখেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। স্থানীয় অনেক ভোটারের মতে, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট পাবেন।

অন্যদিকে বিএনপির আরেক সাবেক নেতা ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তিনি ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনি প্রচারে তিনি দাবি করছেন, অতীতে দলের দুঃসময়ে মাঠে থেকে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। সেই ত্যাগ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন হিসেবেই বিএনপির একটি বড় অংশের ভোট নিজের দিকে টানতে চেষ্টা করছেন তিনি। এর পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনেরও সমর্থন পেয়েছেন তিনি। এতে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। 

এ তিন প্রার্থীর উপস্থিতিতে বিএনপির ভোট অন্তত তিন ভাগে বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা হচ্ছে, এ ভোট বিভাজনই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে চাইছেন ১১ দলীয় জোটের সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মশিউর রহমান। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার নির্বাচনি প্রচারে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জোটের শরিকদের সক্রিয়তা লক্ষ করা যাচ্ছে। অনেক ভোটারের মতে, বিএনপির ভোট যদি সত্যিই বিভক্ত হয়, তবে জামায়াত প্রার্থী অপ্রত্যাশিত সুবিধা পেতে পারেন। তবে জামায়াত প্রার্থীর জন্যও চ্যালেঞ্জ কম নয়। সব মিলিয়ে বাগেরহাট-১ আসনের নির্বাচন এবার একেবারেই খোলা মাঠের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, ঘোড়া কিংবা ফুটবল—যেকোনো প্রতীকই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হতে পারে। ভোটের মাঠে কারা শেষ পর্যন্ত একে অপরের ভোট কেটে নেবে এবং কোন ভোটব্যাংক কোন দিকে যাবে—তার উত্তর মিলবে ভোটের দিনই। পরিস্থিতি বিবেচনায় বলা যায়, বাগেরহাট-১ আসনের ভোটের সমীকরণ অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চিত। শেষ হাসি কে হাসবেন, তা নির্ধারণ করবেন এলাকার ভোটাররাই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...