আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

প্রশাসন নির্লিপ্ত থাকলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না: গোলাম পরওয়ার

খুলনা ব্যুরো

প্রশাসন নির্লিপ্ত থাকলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না: গোলাম পরওয়ার

খুলনা-৫ আসনে (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) ১১দলীয় নির্বাচনি জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারের হাতে এখনো সাত দিন সময় আছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ভোটকেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান নেওয়া সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার এবং কালো টাকার দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। এই দায়িত্ব সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তপশিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন কমিশনের। এ বিষয়ে সরকার নির্লিপ্ত থাকলে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সুযোগ হাতছাড়া হবে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার খুলনা প্রেসক্লাবে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করতে গিয়ে এ শঙ্কার কথা জানান তিনি। বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেসক্লাবের আলহাজ লিয়াকত আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নিজস্ব নির্বাচনি অঙ্গীকারের কথাও ব্যক্ত করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন ও অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব পরিস্থিতি সেই আশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার ভাষায়, নির্বাচনের এখনো এক সপ্তাহ বাকি, অথচ এখনই প্রার্থী, কর্মী ও ভোটারদের ওপর হামলা হচ্ছে। এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে জনগণ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে না।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, খুলনা-৫ আসনে সংগঠিতভাবে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ঢালছে একটি পক্ষ। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কোটা নির্ধারণ করে বাড়ি বাড়ি টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কালোটাকার দাপটে রাজনীতি কলুষিত হচ্ছে এবং প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াত প্রার্থী বলেন, প্রতিটি থানার কাছে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের তালিকা থাকা সত্ত্বেও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কিংবা পরিচিত সহিংসদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, খুলনা-৫ আসনে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫২টি কেন্দ্রকে তারা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এসব কেন্দ্রে ভোটারদের ভয় দেখানো, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই ও আগাম ব্যালট সরানোর আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মনিটরিং সংস্থার কাছে লিখিতভাবে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও জেলা আমির মাওলানা এমরান হোসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপ্যাল গাউসুল আযম হাদী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের, আইনজীবী সমিতির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...